“মেধাবীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি বরদাস্ত নয়!” নিটকাণ্ডে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের ঘোষণাকে স্বাগত জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলে দেওয়া নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত এবং কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত (Fast-Track Court) গঠনের যে ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, তাকে পূর্ণ সমর্থন ও জোরালো স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের তরুণ সমাজ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো রকমের ছিনিমিনি খেলা সরকার বরদাস্ত করবে না।
সিবিআইয়ের তদন্ত ও প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ
বহুচর্চিত নিট প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে সম্প্রতি অন্যতম চক্রী হিসেবে ধৃত সঞ্জীব কুমার ওরফে সঞ্জীব মুখিয়াকে সিবিআই (CBI) ক্লিনচিট দিলেও, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে যে এই চক্রের আসল অপরাধীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুত সাজা নিশ্চিত করতে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন, তাকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যই আমাদের সকলের বক্তব্য। এ বিষয়ে আলাদা করে আমাদের নতুন করে কোনো বক্তব্য রাখার প্রয়োজন নেই।” পাশাপাশি তিনি সামাজিক মাধ্যমেও লেখেন যে, প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী ও অত্যন্ত দৃঢ় পদক্ষেপ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ওপর দাঁড়িয়ে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে বড় বার্তা
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে নিট প্রসঙ্গ ছাড়াও সাম্প্রতিক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) চত্বরের উত্তাল পরিস্থিতি নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর বার্তা সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেওয়াটাই সরকারের লক্ষ্য। গণতান্ত্রিক অধিকার ও নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদের পক্ষে সরকার সবসময় থাকলেও জোর করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার তীব্র নিন্দা করেন তিনি।
যাদবপুরের সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেউ যদি যৌক্তিক বা বৈধ আন্দোলন করেন, সরকার নিশ্চয়ই তা সহানুভূতি দিয়ে দেখবে। কিন্তু অন্য কারও কোনো ফন্দি বা অসৎ উদ্দেশ্য থাকলে, বিনা নির্বাচনে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না, এটা মাথায় রাখতে হবে। দেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মিছিল-মিটিং করার পূর্ণ স্বাধীনতা সকলেরই আছে।”
এর পরেই কড়া সুরে তিনি যোগ করেন, “কিন্তু হোস্টেল থেকে জোর করে ছাত্র-ছাত্রীদের বের করে আন্দোলনে নামানো হচ্ছে। গত পরশু দিন ঠিক এই ঘটনাই যাদবপুরে ঘটেছে। খোদ হোস্টেলের ছাত্রছাত্রীরা আমাকে ফোন করে জানিয়েছে—‘আমরা যেতে চাইনি, কিন্তু আমাদের জোর করে বাধ্য করা হয়েছে।’ আমি আজকেই উপাচার্যের (VC) সঙ্গে কথা বলেছি এবং ভিসিকে পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছি। এ দেশ গণতান্ত্রিক দেশ, বাকস্বাধীনতা সবার আছে। কিন্তু হোস্টেলের ছেলেদের জোর করে এসব কাজে ব্যবহার করা যাবে না। গণতান্ত্রিক উপায়ে মিছিল-মিটিং আমরা অবশ্যই অ্যালাউ করব, কিন্তু জোরজুলুম চলবে না।”