আমেরিকার বড় আঘাত! ভারত সহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০% শুল্ক চাপালো ট্রাম্প প্রশাসন

ভারত সহ বিশ্বের ৬০টি দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা করল আমেরিকা। হোয়াইট হাউসের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, জোরপূর্বক শ্রম (Forced Labour) নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। বিশ্বের বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশগুলির মধ্যে অন্যতম হওয়ায় এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ভারতীয় বাণিজ্যের ওপর বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কোন কোন দেশের ওপর শুল্ক কার্যকর হচ্ছে?
হোয়াইট হাউসের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, মোট ১৭টি দেশের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। ভারতের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে কানাডা, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলিও। অন্যদিকে, তাইওয়ান, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত দেশগুলির ক্ষেত্রে শুল্কের হার কিছুটা বাড়িয়ে ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্য আইন (Trade Act)-এর Section 301-এর আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি রোধ করতে যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া বাধ্যতামূলক। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে চাপ বাড়াতে চাইছে ওয়াশিংটন।

ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাবে ভারতের জন্য ১২.৫ শতাংশ শুল্কের কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও এই অতিরিক্ত শুল্ক ভারতের রপ্তানিকারকদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে বড়সড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলেই মনে করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে বেশি মার খেতে পারে ভারতের শ্রমনির্ভর শিল্পগুলি।

এর মধ্যে বস্ত্র ও পোশাক শিল্প (Textiles & Apparel), রত্ন ও গয়না (Gems & Jewellery), আসবাবপত্র, চামড়াজাত পণ্য এবং জুতো শিল্প আমেরিকার বাজারে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে।

মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেলে ক্রেতারা অন্য দেশের বিকল্প পণ্যের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন।

তবে স্বস্তির বিষয় হলো, কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পণ্য এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, বেশ কিছু প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য এবং কৌশলগত আমদানির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে, ফলে সব ধরনের ভারতীয় রপ্তানি সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি বড় মাপের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জোরদার আলোচনা চলছে। এমন একটি সময়ে নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যদিও মার্কিন প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে যদি কোনো দেশ জোরপূর্বক শ্রম রোধে আরও কঠোর ও সন্তোষজনক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে এই শুল্কের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের মোট রপ্তানির একটি বিরাট অংশ মার্কিনমুখী হওয়ায় এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর শিল্পের রপ্তানিকারকদের পক্ষে উৎপাদন খরচ সামলে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এখন দেখার বিষয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের চলমান বাণিজ্য আলোচনা কোন দিকে মোড় নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *