শেষ মুহূর্তের হুড়োহুড়ি! ইতিমধ্যেই ৩ কোটির বেশি ITR জমা, আপনার আয় কম হলেও কি রিটার্ন ফাইল করতেই হবে?

আর্থিক বছর ২০২৬-২৭-এর জন্য ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন (ITR) জমা দেওয়ার শেষ তারিখ যত এগিয়ে আসছে, করদাতাদের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়ার হিড়িক ততই বাড়ছে। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ৩ কোটিরও বেশি ITR জমা পড়েছে। এমনকি শুধু একদিনেই ১৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ রিটার্ন দাখিল করেছেন। আগামী ৩১ জুলাই হলো ITR-1 এবং ITR-2 জমা দেওয়ার শেষ দিন। আয়কর দফতরের তরফ থেকে শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে দ্রুত রিটার্ন ফাইল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, নতুন কর ব্যবস্থায় (New Tax Regime) বার্ষিক আয় ৪ লক্ষ টাকার বেশি এবং পুরনো কর ব্যবস্থায় (Old Tax Regime) ২.৫ লক্ষ টাকার বেশি হলে ITR জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এর বাইরেও এমন বেশ কিছু বিশেষ পরিস্থিতি রয়েছে, যেখানে আপনার বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমার নিচে হওয়া সত্ত্বেও ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া আইনিভাবে বাধ্যতামূলক।

কম আয় হলেও কোন পরিস্থিতিতে ITR জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক?
আয়কর আইন, ১৯৬১-এর ধারা ১৩৯(১) অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু বড় অংকের আর্থিক লেনদেন বা পরিস্থিতি থাকলে করদাতাদের রিটার্ন ফাইল করতেই হবে:

কারেন্ট অ্যাকাউন্টে ১ কোটির বেশি জমা: একটি বা একাধিক ব্যাঙ্ক বা সমবায় ব্যাঙ্কের কারেন্ট অ্যাকাউন্টে পুরো আর্থিক বছরে মোট ১ কোটির বেশি টাকা জমা হলে ITR জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। বড় অঙ্কের লেনদেনে নজরদারির জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য।

বিদেশ সফরে ২ লক্ষ টাকার বেশি খরচ: নিজের বা অন্য কারও বিদেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যদি কেউ ২ লক্ষ টাকার বেশি খরচ করেন (যেমন ট্যুর প্যাকেজ, বিমান ভাড়া বা আনুষঙ্গিক খরচ), তবে তাঁকে রিটার্ন ফাইল করতে হবে।

বছরে ১ লক্ষ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল: কোনো ব্যক্তির বার্ষিক বিদ্যুৎ খরচ বা বিল ১ লক্ষ টাকার বেশি হলে, তাঁর আয় করযোগ্য সীমার নিচে থাকলেও ITR জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

নির্ধারিত সীমার বেশি TDS বা TCS কাটা হলে: * ৬০ বছরের কম বয়সিদের ক্ষেত্রে: মোট TDS/TCS-এর পরিমাণ ২৫,০০০ টাকা বা তার বেশি হলে।

৬০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের (সিনিয়র সিটিজেন) ক্ষেত্রে: মোট TDS/TCS-এর পরিমাণ ৫০,০০০ টাকা বা তার বেশি হলে।

সেভিংস অ্যাকাউন্টে ৫০ লক্ষ টাকার বেশি জমা: এক বা একাধিক সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক বছরে মোট ৫০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি জমা হলে ITR ফাইল করা আবশ্যক।

বিদেশে সম্পত্তি বা আর্থিক স্বার্থ থাকলে: ভারতের কোনো বাসিন্দা ব্যক্তির যদি বিদেশে কোনো সম্পত্তি থাকে, বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বার্থ বা বিনিয়োগ থাকে, অথবা বিদেশের কোনো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অধিকার থাকে—তবে করযোগ্য আয় না থাকলেও তাঁকে আবশ্যই ITR জমা দিতে হবে।

বাধ্যতামূলক না হলেও ITR জমা দেওয়ার বড় সুবিধাগুলি কী কী?
আইন অনুযায়ী সরাসরি বাধ্যতামূলক না হলেও, সময়মতো ITR জমা দিলে বহু ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন—

যে কোনো ধরনের লোন (হোম লোন, পার্সোনাল লোন বা কার লোন) পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী আয়ের প্রমাণপত্র হিসেবে কাজ করে।

বিদেশে ভ্রমণের জন্য ভিসার (Visa) আবেদন করার প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়।

আপনার আয়ের ওপর অতিরিক্ত কোনো TDS কাটা হয়ে থাকলে, তা রিফান্ড (Refund) পাওয়ার জন্য রিটার্ন জমা দেওয়া জরুরি।

ব্যবসা বা মূলধনী ক্ষতির (Capital Loss) হিসাব পরবর্তী বছরের আয়ের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট বা ক্যারি ফরওয়ার্ড করার সুবিধা পাওয়া যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *