“ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ!” মুর্শিদাবাদে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত পড়ুয়াদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কঠোর বার্তা শুভেন্দুর

মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে স্কুলের ছাত্রবোঝাই গাড়িতে চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় চার জন পড়ুয়া ও এক সাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর বৃহস্পতিবার মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছে যান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (সংবাদ প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী)। এই দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত গেটম্যানের চরম শাস্তির দাবি তোলার পাশাপাশি ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’ বা মৃত্যুদণ্ডের প্রসঙ্গও জোরালোভাবে তুলেছেন তিনি।

পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস
এ দিন মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “একদম ছোট্ট ছোট্ট ফুলের মতো বাচ্চারা এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। কীভাবে সমবেদনা জানাব, ভাষা নেই। এইটুকু বলব, আমি এই শোকাহত পরিবারগুলির পাশে আছি। অর্থের মাধ্যমে এই ধরনের ক্ষতিপূরণের পরিমাপ হয় না, তবুও সরকারের কিছু মানবিক দায়িত্ব থাকে।”

তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে এই দুর্ঘটনা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব ছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ও রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে গেটম্যানের চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছ। এই ঘটনাকে ‘ক্ষমার অযোগ্য’ বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, “আমি পুলিশমন্ত্রী কথা দিচ্ছি, গেটম্যানের চূড়ান্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আমি পরিবারগুলোর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেছি। ঈশ্বর এই পরিবারগুলিকে এই অসীম শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি দিন।”

ফাঁসি বা ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের সওয়াল
এর আগে বারুইপুর-কাণ্ডেও অভিযুক্তদের ‘ক্যাপিট্যাল পানিশমেন্ট’-এর পক্ষে সওয়াল করেছিলেন শুভেন্দু। মুর্শিদাবাদের এই ভায়াবহ দুর্ঘটনায় অভিযুক্তের শাস্তির প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুলিশের উচিত দ্রুত কাস্টডি ট্রায়াল সম্পন্ন করা।

এই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “আমি পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দিচ্ছি, জেলের মধ্যেই যেন দ্রুত তদন্ত শেষ করা হয়। কাস্টডি ট্রায়াল করিয়ে যাতে ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট বা ফাঁসি হয়, তা পুলিশ সুপার ও ডিআইজিরা নিশ্চিত করবেন।” একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় গ্রামবাসীদেরও এই শোকার্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর এবং তাঁদের যেন কোনোভাবেই একা মনে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার অনুরোধ জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *