‘কাউকেই রেয়াত করা হবে না!’-মোদির নির্দেশে এবার ৪ রাজ্যে অ্যাকশন শুরু সরকারের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশ পাওয়ার পরেই নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবার বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গড়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই মামলাগুলিতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘পাবলিক এগজামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স) অ্যাক্ট, ২০২৪’ (Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Act, 2024)-এর ধারায় মামলা দায়ের করা হবে।
সূত্রের খবর, এই আইনটির অধীনে নথিভুক্ত মামলাগুলির বিচারপ্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে শেষ করতে দেশের প্রধান চারটি রাজ্যে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে কেন্দ্র। এর জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার ও হাইকোর্টগুলির কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হবে, যাতে প্রতিদিন মামলার শুনানি চালিয়ে দ্রুত আইনি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়।
কী এই নতুন আইন এবং কোথায় কোথায় প্রয়োগ?
গত ২০২৪ সালের ২১ জুন থেকে সারা দেশজুড়ে কার্যকর হওয়া এই ‘নকল-বিরোধী’ আইনে সরকারি যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, অসদুপায় বা টুকলি রোধে অত্যন্ত কড়া শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
নিচে উল্লিখিত সমস্ত কেন্দ্রীয় পরীক্ষা এই আইনের আওতাভুক্ত:
-
ইউপিএসসি (UPSC) এবং এসএসসির (SSC) সমস্ত পরীক্ষা।
-
রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড (RRB) ও আইবিপিএস (IBPS)-এর নিয়োগ পরীক্ষা।
-
কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক ও দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা।
-
জাতীয় পরীক্ষা এজেন্সি (NTA) পরিচালিত সমস্ত প্রবেশিকা পরীক্ষা (যার মধ্যে NEET-ও অন্তর্ভুক্ত)।
যেহেতু এনটিএ (NTA)-র মাধ্যমেই নিট পরীক্ষা পরিচালিত হয়, তাই এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সমস্ত অনিয়মের মামলা সরাসরি এই নতুন আইনের পরিধিতে চলে আসছে। ইতিমধ্যেই নিট প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলায় এই আইনের আওতায় চারটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিচার করে বম্বে, কলকাতা, দিল্লি এবং মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট-এর এক্তিয়ারভুক্ত এলাকায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যার মধ্যে দুটি মামলাই বম্বে হাইকোর্ট চত্বরের অধীন।
রাজনৈতিক চাপ ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে নিট প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে ছাত্রসমাজ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তরফে লাগাতার বিক্ষোভ চলছে। সম্প্রতি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন যে, গত ১০ বছরে দেশে ১৫২টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে।
এই বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপের আবহে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত এবং কঠোর শাস্তি সুনিশ্চিত করতে আমরা ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই বিষয়ে যা যা করণীয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আধিকারিকদের তা দ্রুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ আদালতের প্রতিদিনের শুনানির মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।