ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে ফায়দা? এসআইআর-এ কারচুপি ধরা পড়তেই কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যসচিবের!

বার্থ সার্টিফিকেট (Birth Certificate) এবং ডেথ সার্টিফিকেট (Death Certificate)-এর ক্রমবর্ধমান জালিয়াতি কঠোর হাতে দমন করতে নড়েচড়ে বসল রাজ্য সরকার। দিনকয়েক আগেই জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রে জালিয়াতি ঠেকাতে নতুন নিয়ম জারি করা হয়েছিল। এবার সমস্ত ভুয়ো জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র খতিয়ে দেখতে জেলায় জেলায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এসআইআর (SIR)-এর সময়ে প্রচুর বেনিয়ম কমিশনের নজরে এসেছে এবং জেনে-বুঝে কেউ কারচুপি করে থাকলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

এসআইআর-এর সময় ব্যাপক ‘কারচুপি’র অভিযোগ
মুখ্যসচিবের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় একাধিক বেআইনি জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতেই রাজ্য সরকার কঠোর পদক্ষেপের পথ বেছে নিয়েছে।

মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, বর্তমানে বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেটের সমস্ত তথ্য স্ক্যান করে কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “বার্থ সার্টিফিকেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি নথিপত্র। নির্বাচনের পরে আমরা অনেক অভিযোগ পেয়েছি। এসআইআর করতে গিয়ে বহু ভুলভ্রান্তি ও নকল সার্টিফিকেট ধরা পড়েছে। পুলিশের কাছেও অনেক অভিযোগ জমা পড়েছে। অনেকে এই জালিয়াতির মাধ্যমে অনৈতিক সুযোগ-সুবিধাও নিয়েছেন।”

কেন এই যাচাইকরণ? ব্যাখ্যা দিলেন মুখ্যসচিব
স্কুল সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রেও বহু ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে মনোজ আগারওয়াল সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ দুর্নীতি মুক্ত করার জন্যই নেওয়া হয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, “কারও ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এই সার্টিফিকেট যাচাই শুধুমাত্র একটি সাধারণ নিয়ম। তবে স্বচ্ছতা আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, সরকারি স্থায়ী আধিকারিকরাই এই নথি যাচাই করবেন, কোনো চুক্তিভিত্তিক কর্মী এই কাজ করবেন না।”

জেলায় জেলায় পুলিশের অ্যাকশন
মুখ্যসচিবের এই কঠোর নির্দেশের পরেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৎপর হয়ে উঠেছে পুলিশ প্রশাসন। ইতিমধ্যেই বীরভূম, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম-এর মতো জেলাগুলিতে রেজিস্টার যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রতিটি পুরসভা এবং পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে নথি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এসআইআর চলাকালীন যে সমস্ত জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু হয়েছিল, তার প্রতিটি রেজিস্টার খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও সামান্য কারচুপির ইঙ্গিত মিললেই যে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে, তা প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *