ব্যাগে অদ্ভূত শব্দ! ব্যাংকক ফেরত যাত্রীর লাগেজ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ কাস্টমসের, উদ্ধার ৭০০-র বেশি জীবিত কচ্ছপ

বিমানযাত্রীর লাগেজ থেকে আসা এক অদ্ভুত শব্দে সন্দেহ দানা বাঁধে শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের মনে। আর সেই সন্দেহের বশেই ব্যাগ খুলতেই চোখ কপালে ওঠে শুল্ক কর্মীদের। ট্রলি ব্যাগের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় ৭০০-রও বেশি বিদেশি প্রজাতির জীবিত কচ্ছপ! বুধবার দুপুরে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। শুল্ক দফতরের এয়ার ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (AIU) আধিকারিকরা ব্যাংকক থেকে আসা এক যাত্রীর ট্রলি ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে মোট ৭০৭টি কচ্ছপ উদ্ধার করেছেন।
ব্যাগের ভিতর ঠাসাঠাসি করে বন্দি কচ্ছপ
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ব্যাংকক থেকে বিমানটি কলকাতায় অবতরণ করে। বিমান থেকে নেমে শুল্ক দফতরের ‘গ্রিন চ্যানেল’ পার হওয়ার সময় এক যাত্রীর অস্বাভাবিক গতিবিধি ও হাঁটাচলা দেখে কর্তব্যরত আধিকারিকদের সন্দেহ হয়। ঠিক সেই মুহূর্তেই তাঁর সঙ্গে থাকা ট্রলি ব্যাগের ভিতর থেকে হালকা নড়াচড়ার শব্দ শুনতে পান কর্মীরা।
তৎক্ষণাৎ ওই যাত্রীকে ‘গ্রিন চ্যানেল’ পার হওয়ার সময় আটকানো হয়। এরপর ট্রলি ব্যাগটি পরীক্ষা করতেই দেখা যায়, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য সামগ্রীর নীচে অত্যন্ত নির্মমভাবে ঠাসাঠাসি করে ভরে রাখা হয়েছে শত শত ছোট কচ্ছপ। পরে গণনা করে দেখা যায়, ব্যাগে মোট ৭০৭টি জীবিত কচ্ছপ রয়েছে।
কোন প্রজাতির কচ্ছপ?
শুল্ক দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কচ্ছপগুলি বিদেশি ‘রেড ইয়ার্ড স্লাইডার’ (Red-eared Slider) প্রজাতির। বন্যপ্রাণীদের বেআইনি বাজারে পোষ্য হিসেবে এই ধরনের কচ্ছপের ব্যাপক চাহিদা ও চড়া দাম রয়েছে। অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে এত বিপুল সংখ্যক কচ্ছপ পাচারের চেষ্টার অভিযোগে ওই যাত্রীকে আটক করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ব্যাংককের ঠিক কোন জায়গা থেকে এই কচ্ছপগুলি সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং ভারতের কোন বাজারে বা কার কাছে এগুলি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা জানতে অভিযুক্তকে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে। এই ঘটনার নেপথ্যে আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণ পাচারকারী কোনো বড় চক্রের হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ও শুল্ক আইনের কঠোর ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে অতীতে বিভিন্ন সময়ে রাজ্যে ট্রেনে করে কচ্ছপ পাচারের ঘটনা প্রকাশ্যে এলেও, পাচারকারীরা এবার বিমানকে মাধ্যম করায় উদ্বিগ্ন বন দফতর ও শুল্ক আধিকারিকরা।