উচ্ছেদ করলেই কি ফের বসে পড়ছে জবরদখলকারীরা? ভিআইপি রোড মামলায় রাজ্যকে কড়া সতর্কবার্তা হাইকোর্টের!

ভিআইপি রোডের দু’ধারে বেআইনি দখলদার উচ্ছেদ বা সরানোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ চেয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে সশরীরে হাজির হয়ে রিপোর্ট পেশ করলেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক। এদিনের শুনানিতে আদালত রাজ্যকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, জবরদখল হঠানোর পর যেন নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়, যাতে দখলদাররা ফের আগের জায়গায় ফিরে আসতে না পারে।
কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, “রিপোর্ট দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ফের দখলদাররা পুরনো জায়গায় যেন ফিরে না-আসে, জেলাশাসককে সেদিকেও করা নজর রাখতে হবে।”
আদালতে কী জানাল রাজ্য?
এদিনের শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতকে জানান যে, চিহ্নিত ২৪টি বেআইনি নির্মাণের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১০টি নির্মাণ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বাকিগুলো সরানোর প্রক্রিয়াও দ্রুত চলছে।
তবে এই দাবির পাল্টা বিরোধিতা করে মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন যে, বাস্তবে এখনও কোনো কার্যকর দখলদার উচ্ছেদ করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, কেষ্টপুর থেকে দমদম পার্কের মধ্যে বাঁ দিকে সেচ দফতরের জায়গা দখল করে বেআইনি বসতি তৈরি হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ সেখানে অবৈধভাবে বসবাস করছেন। পাশাপাশি লেকটাউনে রাস্তার পাশে অবাধে অবৈধ গাড়ি পার্কিং চলছে বলেও দাবি করা হয়।
এই বিষয়ে ডিভিশন বেঞ্চ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, “দখল উচ্ছেদ বলে রিপোর্ট দেওয়া হলো আর সাত-দশদিন পর ফের সেখানে বেআইনি নির্মাণ হলো—কোর্ট সেই বিষয় কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না।” এর উত্তরে রাজ্যের এজি আশ্বাস দিয়ে জানান যে, এবার থেকে আর এমনটা হতে দেওয়া হবে না এবং নতুন করে কাউকে সেখানে বসতে দেওয়া হবে না।
মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ
আদালত জানিয়েছে, প্রাথমিক বিচারে মামলাকারীর কিছুটা জয় হয়েছে, কারণ এতদিন ধরে যে এক জায়গায় স্থিতাবস্থা বজায় ছিল, তাতে নড়াচড়া শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ জুলাই উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক নিজে উপস্থিত না হয়ে লিগাল অফিসারকে দিয়ে রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন, যার জেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। এরপরই ২৩ জুলাই সকালে জেলাশাসককে সশরীরে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ মেনেই এদিন তিনি আদালতে উপস্থিত হন। আগামী ১৮ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে এবং সেদিন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে ফের নতুন রিপোর্ট নিয়ে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।