“দুপুরের মধ্যে সব স্টেশন না খুললে কড়া ব্যবস্থা!” দিল্লি মেট্রো বন্ধ রাখা নিয়ে কেন্দ্রকে চরম ভর্ৎসনা প্রধান বিচারপতির

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সংসদ অভিযান এবং তার জেরে সৃষ্ট পুলিশের দমনপীড়নে উত্তাল রাজধানী দিল্লি। সোমবারের পর থেকেই গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং বিক্ষোভ দমাতে সংসদের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে সেন্ট্রাল দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে সংবেদনশীল এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে এবার কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। বিকেলের মধ্যে সমস্ত বন্ধ মেট্রো স্টেশন খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা ও কড়া হুঁশিয়ারি
গত সোমবার থেকে ২১ জুলাইয়ের সাময়িক নিষেধাজ্ঞার পর আজও দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকায় জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদেরও চরম সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট বিকাশ সিং প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি জানান, মেট্রো বন্ধ থাকায় আইনজীবীরা সময়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছতে পারছেন না।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, দুপুরের মধ্যে যদি মেট্রো স্টেশনগুলি খুলে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না করা হয়, তবে শীর্ষ আদালত নিজে থেকেই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের এন্ট্রি পাসধারী ও রেজিস্ট্রি স্টাফদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে মেট্রো স্টেশন থেকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। আদালতের এই কঠোর বার্তার পরই প্রশাসনের অন্দরে নড়চড় শুরু হয়েছে।
রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও অচলাবস্থা
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে সিজিপি (CJP)-র সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই রণক্ষেত্র দিল্লি। আন্দোলন দমাতে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জের পাশাপাশি ডিসিপির বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। এর ওপর মেট্রো ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। শীর্ষ আদালতের এই হস্তক্ষেপে আগামী দিনে পরিষেবা স্বাভাবিক হয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।