‘শক্তিশালী নেতার ইমেজে ফাটল?’ দিল্লির ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কড়া শিরোনামে অস্বস্তিতে মোদী সরকার

দিল্লির যন্তরমন্তরে চলতে থাকা শিক্ষার্থীদের ছাত্র বিক্ষোভ এখন আর কেবল জাতীয় সীমানার মধ্যে আটকে নেই, বরং তা বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রধান শিরোনামে পরিণত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে প্রখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে আমরণ অনশন শুরু করার পর থেকেই দিল্লির এই আন্দোলন আন্তর্জাতিক মিউজ়িয়ামের নজর কাড়তে শুরু করে। সোশ্যাল মিডিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে এই আন্দোলন এখন সরাসরি দিল্লির রাজপথে আছড়ে পড়েছে, যা নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলেছে বলেই মনে করছে বিদেশি গণমাধ্যমগুলো।

বিদেশি মিডিয়ায় আন্দোলনের তীব্রতা ও তুলনা
বিক্ষোভকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ এবং রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলোকে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় সরকার উৎখাতকারী ঐতিহাসিক ‘জেন-জি’ (Gen Z) গণআন্দোলনের সঙ্গেই তুলনা করছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

বিশ্বের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলো এই পরিস্থিতিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে:

সিএনএন, বিবিসি, আল জাজিরা, রয়টার্স এবং ব্লুমবার্গ: এই সংস্থাগুলো “ভারতের রাজধানীর রাস্তায় কেন এই রাজনৈতিক ক্ষোভ ফেটে পড়ছে?” কিংবা “তরুণ প্রজন্মের এই দাবিগুলি কি মোদী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে?”—এই ধরনের জোরালো শিরোনামে একের পর এক খবর প্রকাশ করছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস: প্রভাবশালী এই সংবাদমাধ্যমটি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে যে, যখন দিল্লির রাজপথে সরকারের বিরুদ্ধে এত বড় মাপের বিক্ষোভ চলছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কীভাবে সম্পূর্ণ চুপ করে থাকতে পারেন? সংবাদপত্রটি আরও জোরালোভাবে লিখেছে যে, এর ফলে মোদীর দীর্ঘদিনের তৈরি হওয়া ‘শক্তিশালী নেতা’ (strongman) ইমেজে হয়তো ফাটল ধরতে শুরু করেছে।

ফিনান্সিয়াল টাইমস: এই গণমাধ্যমটি বর্তমানের এই বিক্ষোভকে ‘সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতীয় রাজধানীর দেখা সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ’ বলে অভিহিত করেছে।

ব্লুমবার্গ ও দ্য গার্ডিয়ান: ব্লুমবার্গের মতে, ‘২০২১ সালের ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের পর জাতীয় রাজধানীতে এটিই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ’। অন্যদিকে দ্য গার্ডিয়ানের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি বর্তমান মোদী সরকার এবং শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিবাদ।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল: তাদের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ‘গত কয়েক বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এমন তীব্র ও বৃহৎ বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়নি’।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের যে জোরালো দাবি তুলেছেন, তা আল জাজিরা একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিশেষ আন্তর্জাতিক আঙ্গিকে পরিবেশন করেছে। ব্রিটেনের রাজনৈতিক উদাহরণের টেনে তারা উল্লেখ করেছে, সেখানে জনপ্রিয়তায় ধস নামায় কীভাবে কিয়ার স্টারমারকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নাম ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গকেই সামনে রেখে ভারতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে যৌক্তিক বলে তুলে ধরেছে এই সংবাদমাধ্যমটি। সবমিলিয়ে দিল্লির এই ছাত্র বিক্ষোভ এখন বৈশ্বিক রাজনীতিরও অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *