“রাস্তায় পুলিশের তোলাবাজি বন্ধ!”-নজর থাকবে কন্ট্রোলরুম থেকে, আশ্বাস শুভেন্দুর

রাজ্যের ট্র্যাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি বা টাকা তোলার অভিযোগ চিরতরে বন্ধ করতে এবার রাজ্যজুড়ে একটি কঠোর নজরদারি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট বিতর্কের জবাবি ভাষণে তিনি জানান, এই নজরদারির জন্য একটি বড় কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হচ্ছে। কোথাও পুলিশ রাস্তায় হাত পাতলে বা টাকা চাইলে সাধারণ মানুষ যাতে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন, তার জন্য বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও ঘোষণা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের আদলে তৈরি এই সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমের কার্যকারিতা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ফরাক্কায় কেউ হাত পাতলে ভবানী ভবনে ডিজি দেখতে পাবেন। কালিয়াচকে হাত পাতলে কলকাতায় আমরা জানতে পারব। কাউকে দুর্নীতি করতে দেবো না, নিশ্চিন্ত থাকুন।” ট্র্যাফিক পুলিশের পাশাপাশি বৈধ কাগজ বা চালান ছাড়া কয়লা, বালি, পাথর ও পশু পরিবহণ কঠোরভাবে বন্ধ করতেও নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বর চালুর কথা জানিয়েছেন তিনি।

২৫ জুলাই আসছে ক্যাগের রিপোর্ট, এফআইআরের হুংকার

বাজেট আলোচনার মাঝেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক ঘোষণায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ২৫ জুলাই ক্যাগের (CAG) রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসছে এবং সেই রিপোর্ট অনুযায়ী দুর্নীতি প্রমাণিত হলে যত বড় নেতাই হোন না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং সরাসরি এফআইআর (FIR) করা হবে।

দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট নিয়ে বিধানসভায় আলোচনা প্রায় বন্ধই রাখা হয়েছিল। ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে দীর্ঘ তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে পুলিশ বিভাগের আধুনিকীকরণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেটের অন্যান্য বড় ঘোষণাগুলি:

  • ফরেন্সিক ল্যাবরেটরি: অপরাধের তদন্তের গতি দ্রুত করতে খড়্গপুর, ব্যারাকপুর, কল্যাণী, মুর্শিদাবাদ, সিঙ্গুর ও মালদায় নতুন ছ’টি আঞ্চলিক ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL) এবং ভ্রাম্যমাণ ফরেন্সিক ইউনিট তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

  • সীমান্ত সুরক্ষা: অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাজ্যের ১২টি জেলার ৩১৯টি গ্রামকে বিএসএফ (BSF)-এর ‘চোখ ও কান’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

  • জঙ্গলমহল ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক: জঙ্গলমহলে মাওবাদী কার্যকলাপের মোকাবিলায় ঝাড়গ্রামের জন্য বিশেষ প্যাকেজ এবং রাজ্যের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ককে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স গ্রিডের (NatGrid) অন্তর্ভুক্ত করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

  • পুলিশের উন্নত প্রশিক্ষণ: পুলিশকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে তাঁদের গুজরাটের রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অসমের তেজগাঁওতে বিএসএফ ইনস্টিটিউশনে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হচ্ছে। কোস্টাল পুলিশের প্রশিক্ষণের জন্য বিএসএফের সঙ্গে চুক্তিও স্বাক্ষরিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *