ডিউটিতে যাওয়ার পথেই ভয়ংকর কাণ্ড! বিমান সংস্থার কেবিন ক্রুকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ক্যাবচালকের বিরুদ্ধে

ডিউটিতে যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার শিকার হলেন এক বেসরকারি বিমান সংস্থার কেবিন ক্রু। নির্দিষ্ট রুটের পরিবর্তে ক্যাবচালক গাড়ি ঘুরিয়ে এক নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই ২৩ বছরের এক অভিযুক্ত ক্যাবচালককে গ্রেফতার করেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (RGIA) সংলগ্ন এলাকায়। ঘটনার পর থেকেই কর্মরতা মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৩৭ বছর বয়সি ওই নির্যাতিতা মহিলা একটি প্রথম সারির বেসরকারি বিমান সংস্থায় কেবিন ক্রু হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। গত ২০ জুলাই, সোমবার দুপুর প্রায় ২টা ৪০ মিনিট নাগাদ তিনি নিজের ডিউটিতে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে রওনা দিয়েছিলেন। বিমান সংস্থার তরফেই তাঁর যাতায়াতের জন্য একটি ক্যাবের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

কিন্তু অভিযোগ, বিমানবন্দর যাওয়ার নির্ধারিত ও স্বাভাবিক পথে গাড়িটি নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে অভিযুক্ত চালক আচমকাই ক্যাবের রুট বদলে ফেলে। বিমানবন্দরের ঠিক কাছাকাছি একটি নির্মীয়মাণ প্রকল্পের পাশের অত্যন্ত নির্জন ও অন্ধকার এলাকায় গাড়িটি নিয়ে চলে যায় সে। সেখানেই মহিলাকে জোর করে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে চরম আতঙ্কিত অবস্থায় নির্যাতিতা পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। তাঁর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সঙ্গে সঙ্গেই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত ২৩ বছরের ক্যাবচালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে পুলিশ হেফাজতে রেখে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে।

প্রমাণ সংগ্রহ ও নিরাপত্তার প্রশ্ন
পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধের শিকার ওই মহিলার মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং ঘটনাস্থল থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে। চালক ঠিক কী উদ্দেশ্যে নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করেছিল, ঘটনার সময় আশেপাশে অন্য কেউ উপস্থিত ছিল কি না, কিংবা এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা তথ্য লুকিয়ে রয়েছে কি না—সেসব দিক অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এই জঘন্য ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব পরিষেবা এবং বিমান সংস্থাগুলির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যাতায়াত করা মহিলা কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলা বা কর্মসূত্রে একা যাতায়াত করা নারী কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আরও অনেক বেশি কড়া নজরদারি এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন সচেতন নাগরিকরা। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ হলেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *