‘পরীক্ষার আগেই বাড়িতে চলে আসত প্রশ্নপত্র!’ কপিল শর্মার শো-তে সলমানকে নিয়ে কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছিলেন বাবা সেলিম?

বর্তমানে দেশজুড়ে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে চলা তীব্র ছাত্র আন্দোলনের আবহে উত্তাল সমাজমাধ্যম। দিল্লির যন্তরমন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ব্যানারে চলা এই বিক্ষোভ ও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে সম্প্রতি একটি স্পষ্ট ও জোরালো বার্তা দিয়েছেন বলিউড সুপারস্টার সলমান খান। প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর ও দুর্ভাগ্যজনক বলে তোপ দেগেছেন তিনি। তবে ভাইজান এই প্রতিবাদের পক্ষে মুখ খুলতেই নেটপাড়ায় আচমকা শুরু হয়ে গেছে এক সম্পূর্ণ অন্যরকম ও কৌতূহলোদ্দীপক আলোচনা!
পুরোনো ভিডিও ঘিরে নতুন চর্চা
সোশ্যাল মিডিয়ায় সলমানের সাম্প্রতিক বার্তার পাশাপাশি বিদ্যুতের গতিতে ভাইরাল হতে শুরু করেছে বছর কয়েক আগের একটি পুরোনো ভিডিও ক্লিপ। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি একসময় নিজে ‘লিক’ হওয়া প্রশ্নপত্র পড়েই পরীক্ষা দিতেন বলিউড ভাইজান? নেটদুনিয়ায় এই আলোচনার সূত্রপাত করেছেন খোদ সলমানের বাবা, প্রখ্যাত তথা লিজেন্ডারি চিত্রনাট্যকার সেলিম খান!
ঘটনাটি ২০২০ সালের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দ্য কপিল শর্মা শো’-এর একটি পর্বের। সেই শো-তে সলমান খান, সোহেল খান এবং আরবাজ খানকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন সেলিম খান। সেখানেই আড্ডার ছলে শো-এর সঞ্চালক ও দর্শকদের হাসাতে গিয়ে একটি পুরোনো মজার ঘটনা শেয়ার করেছিলেন তিনি।
কী বলেছিলেন সেলিম খান?
শো-তে সেলিম খান জানান, তাঁদের বাড়িতে একসময় ‘গণেশ’ নামে এক ব্যক্তি এলে তাকে ঘিরে খাতির জমানোর ধুম পড়ে যেত। চায়ের কাপ থেকে শুরু করে সুস্বাদু নাস্তা এবং বসার জন্য আরামদায়ক চেয়ার—সবকিছুর আয়োজন করা হতো তার জন্য। প্রথম দিকে সেলিম সাহেব ভেবে পেতেন না যে, খোদ ঘরের কর্তার চেয়েও বেশি সম্মান কেন পাচ্ছে ওই গণেশ!
পরবর্তীতে রহস্যের পর্দা ফাঁস হতেই জানা যায়, স্কুলের পরীক্ষার ঠিক আগের মুহূর্তে প্রশ্নপত্র লিক হলেই নাকি সলমান ও ভাইদের হাতে তা এনে পৌঁছে দিত ওই গণেশই! শুধু তাই নয়, কপিল শর্মার শো-তে বসে সলমান খান নিজেও হাসতে হাসতে সেই ঘটনা স্বীকার করে নিয়েছিলেন যে গল্পটা আসলে আক্ষরিক অর্থেই তাঁর জীবনেরই সত্যি ছিল।
বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনার ঝড়
বর্তমানে যখন সারা দেশে নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে তুমুল রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং নিরাপত্তার খাতিরে দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে, ঠিক সেই উত্তপ্ত মুহূর্তেই সেলিম খানের এই পুরোনো কৌতুকপূর্ণ বক্তব্য নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে নেটপাড়ায়। একসময়ের সেই মজার ঘটনা এখন বর্তমানের গুরুতর প্রশ্নফাঁস বিতর্কের মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক অদ্ভুত সমাপতন তৈরি করেছে। একদিকে দিল্লির রাজপথে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল লড়াই এবং অন্যদিকে ভাইজানের পুরোনো প্রশ্ন পাওয়ার গল্প—সব মিলিয়ে ইন্টারনেট দুনিয়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই প্রসঙ্গটিই।