‘পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যুদ্ধ থামবে না!’ ৩০ দিন পার, নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ে নামছে CJP

নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই তীব্র আন্দোলনে নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রথম দিন থেকেই তাদের স্পষ্ট দাবি, এই নক্কারজনক ঘটনার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে দ্রুত পদত্যাগ করতে হবে। এই ইস্যুতে সরকার কোনওরকম সদর্থক আলোচনায় না বসায়, গত জুন মাস থেকেই দিল্লির যন্তরমন্তরে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন অভিজিৎ দিপকে-সহ দলের কর্মীরা। এসএফআই, সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মতো একাধিক বিরোধী দল এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে। মাঝে জেপি নাড্ডার সঙ্গে সিজেপির দুই মুখপাত্রের বৈঠক হলেও, তাতে কোনও সমাধানসূত্র বের হয়নি। ফলে নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছেন তাঁরা। শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে বলেই ফের দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
যন্তরমন্তরে উত্তেজনা ও পুলিশের লাঠিচার্জ
বুধবার রাতে যন্তর মন্তর চত্বর ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর দিল্লি পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাঁদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে দলের মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই দাবির সঙ্গে কোনওরকম আপস করা হবে না এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলবে।
আন্দোলন যাতে কোনওভাবেই হিংসাত্মক রূপ না নেয়, সে বিষয়ে দিনভর পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক-এর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে সিজেপির নেতৃত্বের। উভয় পক্ষই একমত হয়েছে যে এই প্রতিবাদ সম্পূর্ণ অহিংস পন্থায় পরিচালিত হবে। সোনম ওয়াংচুকও প্রকাশ্যে আন্দোলনকারীদের শান্তি বজায় রেখে সঠিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সতর্কবার্তা: সৌরভ দাসের অভিযোগ, দেশের অতীতে বহু আন্দোলনে শাসকদলের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরা সুকৌশলে ঢুকে পড়ে এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে। পরবর্তীতে সেই নাশকতার দায় চাপানো হয় প্রকৃত আন্দোলনকারীদের ঘাড়েই। যন্তরমন্তরের বিক্ষোভেও যাতে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে এদিন সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
জেপি নাড্ডাকে নিশানা
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সাম্প্রতিক সাংবাদিক বৈঠকের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সৌরভ দাস বলেন, “৩০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মানুষ যন্তরমন্তরে বসে আছেন, অথচ তাঁদের আন্দোলন নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি আলোচনার ঊর্ধ্বে এবং এই দাবিতে আন্দোলন যতদিন প্রয়োজন, চলবে।”
অন্যদিকে, জেপি নাড্ডার পালটা দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো এত বড় এবং গুরুতর বিষয়টিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো একেবারেই অনুচিত। নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস মামলা নিয়ে সংসদে সমস্ত দিক খতিয়ে রেখে বিস্তারিত আলোচনা করতে কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার দায়বদ্ধ এবং যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে সর্বদা সক্রিয়—এমনটাই দাবি করেছেন নাড্ডা। তাঁর মতে, দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে কোন কারণে প্রশ্নফাঁস হচ্ছে, কারা জড়িত এবং ভবিষ্যতে কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে যাতে অন্যায় না হয়, সেই সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
তবে, আপাতত এসব বিষয়ে কান দিতে নারাজ আন্দোলনরত পড়ুয়ারা। তাঁদের একটাই দাবি, দায় নিয়ে পদত্যাগ করুক শিক্ষামন্ত্রী, স্বচ্ছতা আসুক এই ধরনের পরীক্ষায়।