‘ভবিষ্যত তাঁদেরই, জয় হিন্দ!’ নিট-ইউজি ২০২৬ বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই অবশেষে মুখ খুললেন আলিয়া ভাট

দেশজুড়ে এখনও থামেনি NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষার বিতর্কের রেশ। প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগ, পরীক্ষা বাতিল, পুনরায় পরীক্ষা, স্বচ্ছ তদন্তের দাবি এবং সামগ্রিক শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কারের দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার পড়ুয়া। প্রথমে শুধুই একটি পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন শুরু হলেও, বর্তমানে তা এক বিশাল আকার ধারণ করেছে। ছাত্রছাত্রীদের একটাই দাবি, শুধু একটি পরীক্ষার ভবিষ্যৎ নয়, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে।
এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই, এতদিন নীরব থাকার পর অবশেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মুখ খুললেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করা তাঁর একটি বার্তা ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
আলিয়ার ইনস্টাগ্রাম বার্তার মূল কথা
নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য না করলেও, দেশের আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের সাহস, ধৈর্য এবং ভবিষ্যৎ গড়ার অদম্য সংকল্পের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আলিয়া। তিনি লিখেছেন, “গত কয়েকদিন আমার হৃদয় বারবার ভেঙেছে, আবার সেই হৃদয়ই নতুন করে আশায় ভরে উঠেছে। কারণ আমি এমন এক প্রজন্মকে দেখেছি, যারা নিজেদের অধিকারের জন্য দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাঁদের এই লড়াই কেবল ব্যক্তিগত নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি পরিবারের বহু বছরের স্বপ্ন, অসংখ্য ত্যাগ, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যতের আশা।”
অভিনেত্রীর কথায়, একজন ছাত্র যখন নিজের নায্য দাবিতে অটল থাকে, তখন সে শুধু নিজের জন্য লড়ে না। সে প্রতিনিধিত্ব করে সেই সমস্ত মানুষকে, যারা তাঁর এই দীর্ঘ পথচলার সঙ্গী হয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী দিনের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আরও একটি সুন্দর এবং ন্যায্য পথ তৈরি করার চেষ্টাও করে সে।
ছাত্রদের এই সাহসিকতা এবং দৃঢ় মানসিকতা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে বলে উল্লেখ করে আলিয়া প্রশ্ন তুলেছেন, “আমরা কি সত্যিই সেই তরুণ প্রজন্মের কথা শুনছি, যারা আগামী দিনে এই দেশের ভবিষ্যৎ গড়বে? যাদের হাতে একদিন এই দেশের মূল দায়িত্ব থাকবে, তাদের কণ্ঠস্বরকে আমরা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছি?” পোস্টের একেবারে শেষে জাতীয় পতাকার ইমোজি দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি লিখেছেন— “ছাত্রদের জন্য, ছাত্রদের হাত ধরেই। ভবিষ্যৎ তাঁদেরই। জয় হিন্দ।”
নেটপাড়ায় দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া
আলিয়ার এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের একাংশ অভিনেত্রীর এই সাহসিকতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই সংকটজনক সময়ে দেশের প্রভাবশালী তারকাদের ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
তবে এর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার অন্য একটি অংশের তীব্র কটাক্ষের মুখেও পড়েছেন আলিয়া। সমালোচকদের দাবি, আন্দোলন এতদিন ধরে চললেও এবং পুলিশি বলপ্রয়োগের মতো ঘটনা ঘটলেও, এতদিন কেন নীরব ছিলেন অভিনেত্রী? দেরিতে মুখ খোলায় এই বার্তার গুরুত্ব অনেকটাই কমে গেছে বলে মনে করছেন অনেকে। কমেন্ট বক্সে এক নেটিজেন যেমন লিখেছেন, “ধন্যবাদ, অবশেষে আপনি কথা বললেন,” তেমনই আবার অপর একজনের কটাক্ষ, “আরও আগে বললে হয়তো এই বার্তার গুরুত্ব আরও অনেক বেশি হতো।”
তবে সমস্ত বিতর্ক ও সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে আলিয়ার এই বার্তার মূল সুর একটাই— যে তরুণরা নিজেদের স্বপ্ন ও পরিবারের আশা পূরণের জন্য আজ রাজপথে লড়ছেন, তাঁদের সেই সাহসকে সম্মান জানানো উচিত। কারণ দিনশেষে ভবিষ্যতের ভারত গড়বে আজকের এই লড়াকু ছাত্রছাত্রীরাই।