পরিচয় গোপন রেখে নিট আন্দোলনে দিশা পাটানির বোন! যন্তরমন্তরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শেয়ার করে যা বললেন খুশবু

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এবং নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজধানী। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকে সাড়া দিয়ে সোমবার জাতীয় রাজধানীতে প্রায় ৫০,০০০ থেকে শুরু করে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাজপথে নেমে আসেন। দীর্ঘ এক মাস ধরে যন্তরমন্তরে ডেরা বাঁধার পর সিজেপি-র এই ‘সংসদ চলো’ অভিযান ঘিরে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। আর এই বিশাল ছাত্র আন্দোলনের মাঝেই ভিড়ের মধ্যে নিজের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে হাজির হয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী দিশা পাটানির বোন খুশবু পাটানি (Khushboo Patani)।
পরিচয় গোপন রেখে মিছিলে খুশবু পাটানি
সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মুখে মাস্ক এবং মাথায় ক্যাপ পরে সম্পূর্ণ সাধারণ মানুষের মতো যন্তরমন্তরের এই প্রতিবাদে অংশ নেন খুশবু। পরবর্তীতে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজে এই আন্দোলনের রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন তিনি। খুশবু জানান, সেখানে কয়েক লাখ মানুষের বিশাল সমাগম থাকা সত্ত্বেও পুরোটা সময় নারীরা নিজেদের সম্পূর্ণ নিরাপদ বোধ করেছেন।
জেনারেশন জি (Gen Z) প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের এই প্রতিবাদের ভূয়সী প্রশংসা করে খুশবু বলেন, পুরুষ পুলিশের উপস্থিতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থী যেভাবে চরম উসকানির মধ্যেও শান্তি বজায় রেখেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। পুলিশি লাঠিচার্জে অনেকের মাথা বা পা ফেটে যাওয়া এবং বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ উঠলেও, পড়ুয়ারা আত্মসংযম হারিয়ে পালটা গায়ে হাত তোলেনি বলেই দাবি তাঁর। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে খুশবু আরও জানান, পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনিও সামান্য আহত হয়েছেন।
উত্তাল সংসদ চলো অভিযান ও পুলিশের ভূমিকা
শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সিজেপি-র নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দিন দিন আরও বেশি তীব্র রূপ ধারণ করছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও যন্তরমন্তরে এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে অনশন শুরু করেছিলেন। তবে সোমবার পরিস্থিতি চরমে ওঠে যখন বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ ভবনের দিকে এগোতে শুরু করেন। সেই মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে দিল্লি পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে।
দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, আন্দোলনকারীরা ১৪৪ ধারা অমান্য করে চরম আক্রমণাত্মক ও সহিংস আচরণ করেছেন এবং বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তাঁরা রাস্তা ছাড়েননি। অন্যদিকে, প্রতিবাদী পড়ুয়া ও তাঁদের সমর্থকদের পালটা অভিযোগ, পুলিশ সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করায় বহু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।
এদিকে, এই গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু খুশবু পাটানিই নন, শাবানা আজমি, প্রতিভা রান্টা এবং প্রকাশ রাজের মতো বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, জট না কাটায় এই বিক্ষোভ এখনও অব্যাহত রয়েছে।