ট্রাম্পের ধ্বংসের হুমকির জবাবে তেহরানের চরম হুঁশিয়ারি! হরমুজ প্রণালী নিয়ে আমেরিকা-ইরান সংঘাত তুঙ্গে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার কড়া হুমকি দেওয়ার পর, তেহরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরানের তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আমেরিকা যদি ইরানের কোনো পরিকাঠামোতে আঘাত হানে, তবে পাল্টা জবাবে গোটা গাল্ফ অঞ্চলের সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন স্বার্থ জড়িত জ্বালানি ফ্যাসিলিটিগুলিতে হামলা চালাবে তেহরান।

তেহরানের হুঁশিয়ারি ও তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন
ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দেশটির আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি (Tasnim News Agency)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, “আমেরিকা যদি ইরানের কোনো সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায়, তবে ইরান পাল্টা জবাবে গোটা অঞ্চলের পরিকাঠামো ও সেতুগুলোতে আঘাত হানবে। এর মধ্যে আমেরিকার স্বার্থ জড়িত জ্বালানি ফেসিলিটিগুলিও বাদ যাবে না।” ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ থেকে আমেরিকার পরিষ্কার বুঝে যাওয়া উচিত যে ইরান যেখানে আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নেয়, সেখানেই হামলা চালায়। ট্রাম্পের এমন ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত আমেরিকার জন্যই বিব্রতকর পরিস্থিতির কারণ হবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের সার্বভৌম অধিকার বজায় রাখা এবং নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে তেহরান।

এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ইরান প্রতিবার হামলা চালালে আমেরিকা ইরানের একটি করে সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালিয়ে তা গুঁড়িয়ে দেবে।

মার্কিন হামলা ও ইরানের ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি
টানা ১২ রাতের মিসাইল হামলা: মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা টানা ১২তম রাতের মতো ইরানের বিরুদ্ধে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আঞ্চলিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথে ইরানের হুমকি সৃষ্টি করার ক্ষমতা দুর্বল করতেই এই অভিযান চালাচ্ছে ওয়াশিংটন।

সীমান্তে আক্রমণ: ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং ‘IRIB News’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের আহভাজ, রামশির, আন্দিমেশক এবং শালামচেহ সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছে মার্কিন মিসাইল হামলায় বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ও হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।

ইরানের বিদেশমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া: ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি তেহরানের চিরাচরিত “চোখের বদলে চোখ” (Eye for an eye) নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যে, ইরানের পরিকাঠামোয় যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত শক্তিশালী ও নির্ণায়ক জবাব দিতে বাধ্য হবে তেহরান।

হরমুজ প্রণালী ও মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *