“১০ বছরে ১৫২ বার প্রশ্নফাঁস, একজনকেও সাজা দেয়নি সরকার!”-বিস্ফোরক রাহুল গান্ধী

পুলিশি আটকের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ড এবং ছাত্র আন্দোলনের ইস্যুতে ফের কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। প্রতিবাদী ছাত্রদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সংহতি জানিয়ে বুকে কালো ব্যাজ পরে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। রাহুলের দাবি, গত ১০ বছরে দেশে ১৫২টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, যা গড়ে প্রতি মাসে একটি ঘটনার সমান। অথচ একটি মামলাতেও কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারেনি সরকার।
শিক্ষা ব্যবস্থা আজ সঙ্কটের মুখে: রাহুল
সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ধারাবাহিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে দেশের একসময়ের গৌরবময় শিক্ষা ব্যবস্থা আজ সম্পূর্ণ দুর্নীতিগ্রস্ত ও কারচুপিতে পর্যবসিত হয়েছে। এর ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রায় ৭.৫ কোটি ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের পরিবার।
-
বছরের পর বছর ধরে অমানুষিক পরিশ্রম করে প্রস্তুতি নেওয়ার পর পরীক্ষার দিন সকালে প্রশ্নফাঁসের খবর পেয়ে তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছেন যুবসমাজ। অনেককেই বেছে নিতে হচ্ছে আত্মহত্যার পথ।
-
অথচ সরকারের টনক নড়ছে না। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী বর্বরোচিত আক্রমণ চালাচ্ছে, লাঠিচার্জ করছে এবং অস্ত্র তাক করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ছাত্রদের ৩ দফা দাবি ও মোদীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে পড়ুয়ারা যে আন্দোলন চালাচ্ছেন, তার সম্পূর্ণ সমর্থনে পাশে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন কংগ্রেস সাংসদ। এদিনের বৈঠক থেকে ছাত্রদের তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন তিনি:
-
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
-
শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যাঁরাই হামলা চালিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
-
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এই চরম অব্যবস্থার জন্য দেশবাসীর ও ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
‘মুখ থেকে রক্ত বেরিয়েছে, তবুও পরোয়া করি না’
গতকালের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশি হেনস্থা ও আটকের ঘটনা প্রসঙ্গে রাহুল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে তিনি এই নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন। তাঁর কথায়, “গতকাল আমার মুখ থেকে রক্ত বের হচ্ছিল, কিন্তু সেটা আমার চিন্তার বিষয় নয়। এর চেয়ে পাঁচ গুণ খারাপ ব্যবহার করা হলেও আমার কোনও আপত্তি নেই। আসল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত দেশের কোটি কোটি ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ ও তাঁদের আসল সমস্যাগুলি।” যুবসমাজের এই লড়াইয়ে কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত পাশে থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।