“স্মার্ট মিটার বসানো বাধ্যতামূলক নয়!”-বিধানসভায় বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

রাজ্যে বাড়ি বাড়ি প্রি-পেইড বা স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে চলা জল্পনার অবসান ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার রাজ্যে ঘরে ঘরে স্মার্ট মিটার বসানো বাধ্যতামূলক করছে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের স্বস্তি দিয়ে আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে প্রতি তিন মাসের পরিবর্তে প্রতি এক মাস অন্তর বিদ্যুৎ বিল পাঠানোর বড় ঘোষণা করেছেন তিনি।
স্মার্ট মিটার নিয়ে জল্পনা ও মানুষের দুশ্চিন্তা দূর
রাজ্যে সরকার বদল হওয়ার পর থেকেই বাড়ি বাড়ি স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে নানা মহলে কৌতূহল ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা ছিল:
-
স্মার্ট মিটারের বাড়তি খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হতে পারে।
-
প্রি-পেইড রিচার্জ ব্যবস্থার কারণে হঠাৎ ব্যালান্স শেষ হয়ে গেলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে, যা গরিব ও সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির পক্ষে চরম ভোগান্তির কারণ হবে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিনের বিধানসভা থেকে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্পষ্ট করে দেন যে, এই সরকার জনমুখী এবং মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানো হবে না।
বাম ও বিরোধীদের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
এদিন বিধানসভার ফ্লোরে বাম শিবির ও বিরোধীদের আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বামপন্থীদের হাওয়া বেরিয়ে যাবে। মিছিল করার সুযোগ দেব না। এই সরকার মানুষের। আমরা জনগণের দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত নিই।” পাশাপাশি যাদবপুর পলিটিক্স ও উস্কানিমূলক প্ররোচনা প্রসঙ্গে সতর্ক করে তিনি বলেন, “যাদবপুর পার্টি সাবধান থাকুন। উস্কানি দিতে শুরু করেছেন। বেশি বাড়তে দেব না। এটা দুর্বল সরকার নয়।” বিদ্যুৎ বাজেটের এই নতুন ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ ও খেটে খাওয়া মধ্যবিত্ত সমাজকে স্বস্তি দেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।