বিধানসভায় তুলকালাম! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মুখে ‘প্রতিষ্ঠিত চোর’ মন্তব্য!

রাজ্য বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেটের ওপর জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চরম আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা বিভিন্ন মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে শুভেন্দু এদিন হুঙ্কার দেন যে, তিনি বেঁচে থাকতেই প্রমাণ করে ছাড়বেন যে তিনি একজন ‘প্রতিষ্ঠিত চোর’। পাশাপাশি, আগামী দিনে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলারও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

ঠিক কী বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?

  • ‘প্রতিষ্ঠিত চোর’ প্রমাণ করার হুঁশিয়ারি: এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘কালকে তারামণ্ডলের সামনে অনেক বড় বড় কথা বলেছেন। বলেছেন, বেঁচে আছি দেখে নেবো। আমি বলছি, বেঁচে থাকতে থাকতেই প্রাক্তন হয়েছেন, আপনি যে একজন ‘প্রতিষ্ঠিত চোর’ সেটাও প্রমাণ করব। বেঁচে থাকতে থাকতেই সব দেখে যাবেন।’’

  • সিবিআই তদন্ত ও পুনর্তদন্তের দাবি: একুশের নির্বাচনের আগের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘‘একুশের নির্বাচনের আগে যা করেছেন, তা ১৯৪৭-এর আগেও ব্রিটিশরা করেনি। দরকার হলে সিবিআই-কে লিখব, কিছু মামলা আমাদের হাতে দিয়ে দিন। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বলে গেলাম, সমস্ত এফআইআর-কে নতুন করে পুনর্তদন্ত করতে হবে।’’

  • পরাজয় ও রাজনৈতিক অতীত নিয়ে কটাক্ষ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও সাম্প্রতিক পরাজয় নিয়ে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘২০১৪ সালে যখন বিজেপির কিছুই ছিল না, তখনও দক্ষিণ কলকাতায় তথাগত রায় প্রার্থী হলে আপনি নিজের পাড়ার বুথ— মিত্র ইনস্টিটিউশনে হেরেছিলেন। পাশের বাড়ির লোক তো ভোট দেয়ই না, বাড়িতে যারা কাজ করে তারাও চোখ মারে। আবার ফুটানি মারেন ইন্টারন্যাশনাল লিডার বলে! ২২ সালে আমাকে বলা হয়েছিল নিজের ওয়ার্ডে জিততে পারি না, কিন্তু ভগবানের এমন মার যে এবার আপনি নিজের পাড়াতেই মিত্র ইনস্টিটিউটের চারটি বুথেই হেরেছেন। ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে চার হাজার ভোটে হেরেছেন।’’

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত রাজনৈতিক উত্থান এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু বলেন যে, অতীতে অটল বিহারী বাজপেয়ীর আশীর্বাদ এবং পুলিশের ক্ষমতার ওপর ভর করে তিনি জননেত্রী হয়ে উঠলেও বর্তমানে সেই দুই স্তম্ভের একটিও আর তাঁর পাশে নেই। নির্বাচনে লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, সাহস থাকলে ভোটে লড়ে কোথায় থাকতে হয় তা দেখে নেওয়া উচিত, কারণ তখন খুঁজে পাওয়ার জন্য ‘দূরবীণ’ লাগবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *