সাদা নয়, এখানে কালো দাঁতই চরম সৌন্দর্যের প্রতীক! জানলে চমকে যাবেন এই দেশের অদ্ভুত রীতি

দাঁতে একটু কালো বা হলদেটে ছোপ পড়লেই সকলের মন খারাপ হয়ে যায়। এমনকী বিভিন্ন মাজন প্রস্তুতকারী সংস্থাও মুক্তোর মতো সাদা দাঁতের লোভ দেখিয়ে নানা বিজ্ঞাপনী চমকে মানুষকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। কিন্তু যাঁদের প্রাকৃতিকভাবেই মুক্তোর মতো ঝকঝকে সাদা দাঁত রয়েছে, তাঁরা যদি সাধ করে সেই দাঁত কুচকুচে কালো করে নেন, তবে কেমন হবে? কথাটি অদ্ভুত মনে হলেও, ভারত থেকে খুব একটা দূরে নয়, এমন একটি দেশেই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এই চাঞ্চল্যকর রীতি।

যেখানে সাদা দাঁত নয়, বরং কুচকুচে কালো দাঁতই হলো আসল সৌন্দর্যের প্রতীক এবং সামাজিক সম্মানের মস্ত বড় নিদর্শন! ওই দেশের মানুষ নানা কসরত করে তাঁদের দাঁত এমনভাবে কালো করে তোলেন, যা চিরকালের মতো স্থায়ী হয়ে যায়।

জানা যায়, একটা সময় ভিয়েতনামে প্রবল বিশ্বাস ছিল যে, যেকোনো সম্ভ্রান্ত বা উচ্চবিত্ত মহিলার দাঁত অবশ্যই কালো হওয়া উচিত। আর সেই ধারণার বশবর্তী হয়েই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেখানে দাঁত কালো করার অদ্ভুত রেওয়াজ চলে আসছে, বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে।

আগে ঐতিহাসিকদের ধারণা ছিল যে এই সংস্কৃতিটি ভিয়েতনামে মূলত ১৮ শতকের দিকে মাথাচাড়া দিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিককালে কিছু প্রাচীন দেহাংশ বা জীবাশ্ম পরীক্ষা করে গবেষকরা জানতে পেরেছেন যে, আজ থেকে প্রায় ২ হাজার বছর আগেও ভিয়েতনামে দাঁত কালো করার এই প্রাচীন রেওয়াজ প্রচলিত ছিল!

তবে এই দাঁত কালো করার প্রক্রিয়াটি মোটেও কোনো সহজ কাজ ছিল না। পেশাদার কারিগরেরা প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে নানা উপকরণের সাহায্যে মানুষের সাদা দাঁতকে কুচকুচে কালো ও চিরস্থায়ী রূপ দিতেন।

আধুনিক যুগে এসে ভিয়েতনামের সাধারণ জনজীবন থেকে এই প্রথা অনেকটাই কমে গেলেও, এখনও বয়স্ক মানুষ ও সেখানকার কিছু প্রাচীন জনজাতির মধ্যে দাঁত কালো করার এই প্রাচীন সংস্কৃতি বেশ জাঁকজমকভরেই টিকে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *