চল্লিশ পেরোতেই কি শরীর ক্লান্ত লাগছে? নেপথ্যে রয়েছে কোন ৩ মানসিক কারণ?

চল্লিশের কোঠা মানেই বার্ধক্য নয়, বরং জীবনের অন্যতম কর্মক্ষম একটি পর্যায়। অথচ এই বয়সেই অনেক মানুষ চরম শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভব করতে শুরু করেন। কিন্তু শারীরিক কোনো বড় রোগ ছাড়াই কেন এমন হয়? সম্প্রতি এক গবেষণায় এর নেপথ্যে থাকা অবাক করা কারণগুলি সামনে এসেছে।
অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দীর্ঘ গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ বছর বয়সে এসে শক্তি হারিয়ে ফেলার পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ কাজ করে। গবেষকদের মতে, এগুলি সবই মনস্তাত্ত্বিক এবং মানুষের চিন্তাভাবনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
১. একাকীত্ব: মধ্যবয়সে মনে একাকীত্বের ভাবনা বাসা বাঁধলে তা খুব দ্রুত মানুষকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। এই সামাজিক বা মানসিক একাকীত্বই সরাসরি শরীরে দুর্বলতা ডেকে আনে।
২. বয়স বেড়ে যাওয়ার ভুল ধারণা: ৪০ বছর পার করলেই অনেক মানুষের মনে এক অদ্ভুত আতঙ্ক কাজ করতে শুরু করে। তাঁরা মনে করেন যে তাঁরা দ্রুত বুড়ো হয়ে যাচ্ছেন এবং আগের মতো আর কর্মক্ষম নেই।
৩. অসময়ে বার্ধক্য গ্রাস করার ভয়: অনেকের অবচেতন মনে এই ধারণা স্থায়ীভাবে গেঁথে যায় যে তাঁদের শরীরে বয়সের আগেই বার্ধক্য বাসা বেঁধেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিনটি মানসিক ধারণার যেকোনো একটিও যদি কারও মনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে, তবে তাঁর শরীরে শক্তি ও এনার্জি দ্রুত কমতে শুরু করে। এমনকি এর প্রভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও হ্রাস পেতে পারে। তাই বয়স শুধুই একটি সংখ্যা—এই সত্যটি উপলব্ধি করে নেতিবাচক ভাবনা থেকে দূরে থাকলে চল্লিশেও তরতাজা ও সুস্থ থাকা সম্ভব বলেই মত গবেষকদের।