ধর্মতলায় সাংবাদিক নিগ্রহ কাণ্ড: ধৃতরা কি আদৌ কোনো দলের সদস্য? লালবাজারের দাবিতে তোলপাড়!

নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শুক্রবার ধর্মতলায় আয়োজিত বিক্ষোভ ও আন্দোলন চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ওপর হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। এই নিয়ে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত নগরপাল (গোয়েন্দা) কুণাল আগরওয়াল। তবে এই গোটা ঘটনায় সবচেয়ে বড় মোড় হলো, ধৃতদের কেউই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সঙ্গে যুক্ত নন বলে পুলিশ ও দলটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে পাকড়াও অভিযুক্তরা
লালবাজার সূত্রে খবর, নতুন করে যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরা হলেন করেয়া থানা এলাকার বাসিন্দা শাহবাজ খান (৩৪), রাজাবাগান এলাকার শেখ মহম্মদ সলমন হুসেন (২৯) এবং ভাঙড়ের বাসিন্দা মহম্মদ জহিরুদ্দিন মোল্লা (৩২)। পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃতদের মধ্যে দু’জন অভিযুক্ত ঘটনার পরেই রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি; দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের কাছ থেকে তাঁদের সফলভাবে আটক করে পুলিশ। এর আগে এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত মহম্মদ আফরোজকে গত শনিবার অন্ডাল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

সিজেপি-র দূরত্ব বৃদ্ধি ও লালবাজারের অবস্থান
কলকাতা পুলিশের কাছে ই-মেল মারফত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ধর্মতলায় সাংবাদিক নিগ্রহ ও ভাঙচুরের সঙ্গে তাদের দলের বা কোনো দলীয় কর্মকাণ্ডের ন্যূনতম কোনো যোগসূত্র নেই। ফলে আন্দোলনের আড়ালে অন্য কোনো কায়দায় এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে জোরদার জল্পনা শুরু হয়েছে।

৬টি পৃথক এফআইআর ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি
প্রসঙ্গত, দিল্লিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের আঁচ গত শুক্রবার তীব্র আকার ধারণ করে কলকাতায়। কিন্তু সেই আন্দোলন চলাকালীন ধর্মতলায় যেভাবে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়, তাতে গোটা রাজ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। লালবাজার জানিয়েছে, শুধুমাত্র সাংবাদিকদের ওপর হামলা নয়, বরং এলাকায় সুপরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়ানো, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের ওপর হামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই মোট ছ’টি পৃথক এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। প্রতিটি মামলার আলাদাভাবে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, সংবাদমাধ্যমের সম্প্রচারিত ভিডিও, মোবাইল ফোনের ক্লিপিংস এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে বাকি জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কলকাতা পুলিশ।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *