বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে আজম খানের স্বপ্ন! জওহর বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙার নির্দেশ আসতেই কোন বড় পদক্ষেপে নামল সমাজবাদী পার্টি?

উত্তরপ্রদেশের রামপুরের মর্যাদাপূর্ণ মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙার সরকারি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেত্রী মাতা প্রসাদ পান্ডের নেতৃত্বে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) ২৮ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায় বিশিষ্ট প্রতিনিধিদল আজ রামপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করার কড়া দাবি জানাতে এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিতেই এসপি-র এই বিশেষ প্রতিবাদ কর্মসূচি। বর্তমান ও প্রাক্তন বিধায়কদের নিয়ে গঠিত এই প্রতিনিধিদলের আকস্মিক সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ছড়িয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা হলেন সমাজবাদী পার্টির প্রবীণ নেতা আজম খান।
রামপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৩৮টি ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, ১৯৭৩ সালের উত্তর প্রদেশ নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন আইন অনুযায়ী কোনো ধরনের বৈধ নকশার অনুমোদন ছাড়াই এই বিশাল অবকাঠামোগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। এর আগে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে উপযুক্ত জবাব চেয়ে নোটিশও পাঠিয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাফাই, ভবনগুলো বহু আগেই নির্মিত হয়েছিল এবং সেই সময় এলাকাটি আরডিএ-র (RDA) এখতিয়ারভুক্ত ছিল না, ফলে আলাদা করে কোনো অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি।
বুলডোজার নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ সমাজবাদী পার্টি
প্রশাসনের এই বুলডোজার অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সমাজবাদী পার্টি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার অর্থ হলো সরাসরি শিক্ষা পরিকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের ‘শিক্ষার অধিকার’ ধ্বংস করা, যা ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এসপি-র অভিযোগ, রাজ্য সরকারের এই প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপের ফলে দরিদ্র, অনগ্রসর এবং দলিত সম্প্রদায়ের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ নামমাত্র ফিতে সেখানে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ পড়াশোনার সুযোগ পেত। আজম খানের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজবাদী পার্টির এই প্রতিনিধিদল শেষ পর্যন্ত রামপুর প্রশাসনের ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।