অন্ধ পুত্রস্নেহই কাল! মদ্যপ ছেলের হাতে দেওয়ালে মাথা ঠুকে খুন ৭০ বছরের বৃদ্ধা মা, কাঁপল পূর্ব মেদিনীপুর

মদ্যপ ছেলের অন্ধ স্নেহের মাসুল দিতে হলো প্রাণ দিয়ে। নেশার ঘোরে প্রতিবাদ করায় ৭০ বছরের বৃদ্ধা মাকে দেওয়ালে মাথা ঠুকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমার থানা এলাকার বাসুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের খঞ্চি গ্রামে। পুলিশ অভিযুক্ত ছেলে শঙ্কর হাজরাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত শঙ্কর হাজরা দিনের বেশিরভাগ সময়ই মদ্যপ অবস্থায় থাকত এবং নেশার ঘোরে প্রায় প্রতিদিনই তার বৃদ্ধা মা সন্ধ্যা হাজরাকে (৭০) বেধড়ক মারধর করত। প্রতিবেশীরা একাধিকবার এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানালেও কোনো লাভ হয়নি। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বারবার পুলিশে খবর দেওয়ার কথা বললেও, অন্ধ পুত্রস্নেহের কারণে প্রতিবারই তা এড়িয়ে গিয়েছিলেন সন্ধ্যা দেবী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে তাঁর এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি কেউ।

গত মঙ্গলবার আচমকাই শঙ্কর ও তার মায়ের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। সেই বচসার মাঝেই চরম হিংস্র হয়ে ওঠে শঙ্কর। অভিযোগ, সেজোর করে বৃদ্ধা মায়ের মাথা লাগাতার ঘরের দেওয়ালে ঠুকতে থাকে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রতিবেশীদের তৎপরতা ও গ্রেফতারি
মাকে মারধরের চিৎকার-চেঁচামেঁচি শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং ঘরে সন্ধ্যা দেবীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পাশেই বসেছিল অভিযুক্ত শঙ্কর। এরপর পরিবারের লোকজন ও গ্রামবাসী মিলে সাহসিকতার সঙ্গে অভিযুক্ত শঙ্কর হাজরাকে আটকে রেখে নন্দকুমার থানায় খবর দেন।

খবর পাওয়া মাত্রই নন্দকুমার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক ও পরে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। আজই ধৃতকে তমলুক আদালতে তোলা হচ্ছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা এবং এলাকার ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। স্থানীয়দের আক্ষেপ, পরিবার যদি গোড়াতেই কঠোর পদক্ষেপ করে পুলিশে খবর দিত, তবে হয়তো এক মায়ের এমন করুণ পরিণতি দেখতে হতো না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *