ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মে বিরাট বদল আনল বিসিসিআই! ইচ্ছাকৃত নো বল করলেই সরাসরি সারা ম্যাচের জন্য বলিং থেকে নিষিদ্ধ বোলার

২০২৬-২৭ সালের ঘরোয়া ক্রিকেট মরসুম শুরু হওয়ার ঠিক আগে ভারতীয় ক্রিকেটে এক ঐতিহাসিক ও বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা করল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ম প্রস্তুতকারক সংস্থা মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)-এর সুপারিশ মেনেই এবার ঘরোয়া ক্রিকেটে মোট ৫টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কড়া নিয়ম বদল করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে এই নতুন নিয়ম বদলের সার্কুলার দেশের সমস্ত রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

১) নো বলের নিয়মে কঠোর শাস্তি:
নিয়ম পরিবর্তনের তালিকায় সবচেয়ে বড় এবং কঠোর পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে বোলিং সংক্রান্ত নিয়মে। এতদিন কোনো বোলার ফ্রন্ট ফুট বা নো বলের নিয়ম লঙ্ঘন করলে সাময়িক সতর্কবার্তা বা ইনিংসের নির্দিষ্ট কিছু অংশের জন্য শাস্তি পেতেন। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বোলার যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ফ্রন্ট ফুট ডেলিভারি বা নন-ল্যান্ডিং ডেলিভারি করেন, তবে তাঁকে পুরো ম্যাচের বাকি অংশে আর কোনোভাবেই বোলিং করতে দেওয়া হবে না। মাঠের দুই অন-ফিল্ড আম্পায়ার যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন যে ডেলিভারিটি ইচ্ছাকৃত ছিল কি না।

২) দিনের শেষ ওভারের খেলায় পরিবর্তন:
এতদিন নিয়ম ছিল, কোনো দিনের শেষ ওভার চলাকালীন যদি কোনো উইকেট পতন ঘটে, তবে সঙ্গে সঙ্গে দিনের খেলা শেষ বলে ঘোষণা করা হতো এবং নতুন ব্যাটারকে আর মাঠে নামতে হতো না। কিন্তু নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এখন থেকে শেষ ওভারের নির্ধারিত সময় বা বল সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত খেলা চলতেই থাকবে, মাঝপথে উইকেট পতনের কারণে খেলা বন্ধ করা হবে না।

৩) ইনিংস ডিক্লেয়ার বা ফরফিট করার অধিকারে নিষেধাজ্ঞা:
নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, কোনো দল তাদের শেষ ইনিংসে আর ইচ্ছামতো ডিক্লেয়ার বা ফরফিট করতে পারবে না। এমসিসি ও বিসিসিআই-এর যৌথ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অতীতে এই নিয়মটিকে ব্যবহার করে অনেকেই কৃত্রিমভাবে ম্যাচের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন, যা ক্রিকেটের পবিত্রতার পরিপন্থী।

৪) কোচদের জন্য বিশেষ সুবিধা:
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঘরোয়া একদিনের বা সীমিত ওভারের ম্যাচেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে নির্ধারিত ড্রিঙ্কস ব্রেকের সময় দলের প্রধান কোচ সরাসরি মাঠে প্রবেশ করে খেলোয়াড়দের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন। আন্তর্জাতিক স্তরে আইসিসি এই নিয়ম চালুর পথেই হাঁটার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ঘরোয়া ক্রিকেটেও তা প্রয়োগ করছে বিসিসিআই।

৫) উইকেটকিপারদের ক্ষেত্রে বড় স্বস্তি:
কিপারদের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা দূর করতে নিয়মে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। আগে বোলার রান-আপ শুরু করার মুহূর্ত থেকেই উইকেটকিপারকে তাঁর গ্লাভস বাধ্যতামূলকভাবে স্টাম্পের পেছনে রাখতে হতো। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই আম্পায়ার নো বল ডাকতেন, যার ফলে অতীতে বহু বৈধ স্টাম্পিংও বাতিল হয়ে গেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে বোলার হাত থেকে বল ছাড়ার সঠিক মুহূর্তে গ্লাভস স্টাম্পের পেছনে থাকলেই তা সম্পূর্ণ বৈধ বলে ধরা হবে।

আগামী মাসেই দলীপ ট্রফি টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে ভারতের ২০২৬-২৭ ঘরোয়া ক্রিকেট মরসুম। তার আগে দেশের সমস্ত রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলি তাদের নিজ নিজ অঞ্চলের আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের এই নতুন নিয়মগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে শুরু করেছে। বিসিসিআই সূত্রে জানানো হয়েছে, আসন্ন মরসুম শুরুর আগে সমস্ত ম্যাচ অফিসিয়ালদের জন্য বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *