আকাশছোঁয়া হতে পারে জ্বালানির দাম! বিশ্ববাজারে যুদ্ধের কালো মেঘে পেট্রল-ডিজেল নিয়ে বড় আশঙ্কার কথা শোনালেন বিশেষজ্ঞরা

ভারতে আপাতত পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দাম স্থিতিশীল পর্যায়ে থাকলেও, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের এই লাগাতার ঊর্ধ্বগতি দেশের অর্থনীতি নিয়ে বড়সড় আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববাজারে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের আমদানি খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাবে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে জ্বালানি তেল বিপণন সংস্থাগুলির ওপর। ফলস্বরূপ, আগামী দিনে দেশের সাধারণ মানুষের পকেটে ফের বড় ধাক্কা দিয়ে বাড়তে পারে পেট্রল ও ডিজেলের দাম (Fuel Price)।
আজকের জ্বালানির দাম ও বাজারের পরিস্থিতি
গত কয়েক দিনে দেশের বেশ কিছু জায়গায় জ্বালানির দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মধ্যবিত্তের পকেটে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। আর সেই কারণেই নিত্যদিনের যাতায়াত ও দৈনন্দিন খরচের কথা মাথায় রেখে পেট্রল-ডিজেলের দামের দিকে এখন থেকেই তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন সকলে।
বিশ্লেষকদের জোরালো দাবি, বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত বা ক্রুড অয়েলের দাম অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ক্রুড অয়েলের দাম একশো ডলারের গণ্ডি অনায়াসেই ছাড়িয়ে গেছে। এর পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে আন্তর্জাতিক পরিবহণ ও লজিস্টিক খরচও। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এই বাড়তি চাপের ফলেই তেল বিপণন সংস্থাগুলি প্রিমিয়াম পেট্রলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।
আমদানির ওপর ভারতের নির্ভরতা ও অর্থনীতির প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত তার মোট চাহিদার প্রায় ৮৮ শতাংশ অপরিশোধিত তেলই বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। এই কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্যতম ওঠানামাও সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, জ্বালানির দাম এভাবে লাগাতার বৃদ্ধি পেতে থাকলে একদিকে যেমন দেশের বাজারে মুদ্রাস্ফীতি বা জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তেমনই আন্তর্জাতিক মুদ্রার বাজারে ভারতীয় টাকার ওপরও তীব্র চাপ তৈরি হয়। সবমিলিয়ে, বিশ্ববাজারের বর্তমান পরিস্থিতি যে খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়, তা বলাই বাহুল্য।