তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ কাণ্ডে বিরাট মোড়! ইডির বিরাট জালে এবার দলের এই হেভিওয়েট নেতা?

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার চাঞ্চল্যকর মামলায় এবার ইডির (ED) কড়া নজরে পড়লেন দলের প্রাক্তন সাংসদ তথা শুভাশিস চক্রবর্তী। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে তাঁকে আগামী সপ্তাহে তলব করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট দিনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, দলের কিছু সন্দেহজনক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং ব্যাঙ্কে পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে পাওয়া নতুন তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান গোয়েন্দারা। যদিও এই তলব ও সমন পাঠানোর বিষয়ে শুভাশিস চক্রবর্তীর তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট
এর আগে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। যদিও দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়, অরূপ বিশ্বাসকে সরিয়ে আগেই শুভাশিস চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে অরূপ বিশ্বাসের অভিযোগের ভিত্তিতে এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাংকে তৃণমূলের নামে থাকা তিনটি অ্যাকাউন্টে ‘ডেবিট ফ্রিজ’ করে দেয় পুলিশ। এরপর বিষয়টি নিয়ে باقاعدہ ECIR দায়ের করে তদন্তে নামে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এবং অ্যাকাউন্টগুলি সম্পূর্ণরূপে ফ্রিজ করে দেওয়া হয়।
হাইকোর্টেও স্বস্তি পেল না শাসকদল
ইডির এই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ‘কালীঘাট তৃণমূল’। মামলাটি ওঠে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চে। তবে আদালত ইডির এই পদক্ষেপে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে। ফলে আপাতত ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত ধরনের আর্থিক লেনদেন বন্ধই থাকছে।
এর আগে গত ১০ জুলাই এই সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষও। সে সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য কিছু কড়া শর্ত সাপেক্ষে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, দলীয় দৈনন্দিন কাজ ও আইনি মামলার খরচের জন্য অ্যাকাউন্ট তিনটি ব্যবহার করা যাবে। তবে সেই অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর হাতে থাকবে না; বরং আদালতের নির্দেশমতো একজন স্পেশাল অফিসারের নজরদারিতেই তা পরিচালিত হবে। এদিকে ইডি কর্তৃক ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্টগুলি আদালতের নজরদারিতে ব্যবহার করার অনুমতি চেয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে ফের আবেদন করা হলেও, গত সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাও সেই আবেদন সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে এই মুহূর্তে মামলাটিতে তারা কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না।
তদন্তে ৪৪০ কোটি টাকার বেশি ফ্রিজ
উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই তৃণমূলের দলীয় তহবিল সংক্রান্ত আর্থিক দুর্নীতির মামলার তদন্তে নেমে কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় அதிர্ধ অভিযান চালায় ইডি। দলীয় তহবিল থেকে হওয়া বেশ কিছু সন্দেহজনক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্টে থাকা মোট ৪৪০ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা ফ্রিজ করে দেয় কেন্দ্রীয় এজেন্সি। আদালতের তরফ থেকেও কোনো রকম আইনি সুরক্ষা বা হস্তক্ষেপ না মেলায়, আপাতত এই বিশাল অঙ্কের তহবিল ব্যবহার করার কোনো পথ খোলা নেই শাসকশিবিরের সামনে।