নিট কাণ্ড ও রাম মন্দির ট্রাস্টে দুর্নীতির আঁচে উত্তাল সংসদ! শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় বিরোধীরা

সংসদের বাদল অধিবেশনের শুরুতেই নিট-ইউজি (NEET-UG 2026) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অযোধ্যায় শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের তহবিলে গরমিলের মতো বিস্ফোরণ ঘটানো একাধিক ইস্যু ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে। যন্তর মন্তরে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর বিশাল জমায়েতের কথা তুলে ধরে কংগ্রেস সাংসদ সপ্তগিরি উলাকা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, পরীক্ষা কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে দুর্নীতির প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধীরা এবার পুরোপুরি বদ্ধপরিকর। এর পাশাপাশি তাঁদের এক ও অভিন্ন প্রধান দাবি—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ।

মঙ্গলবার সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস সাংসদ বলেন, সংসদের অন্দরে ও বাইরে তাঁরা এই সমস্ত জ্বলন্ত ইস্যু জোরালোভাবে তুলে ধরবেন। তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আশানুরূপ ইতিবাচক বার্তা মেলেনি। সপ্তগিরি উলাকা জোর দিয়ে বলেন, “আমরা প্রশ্নপত্র ফাঁস ও রাম মন্দির তহবিলের অর্থ তছরুপ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা চাই। আমাদের মূল দাবিই হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।” যতদিন না দেশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট ও কঠোর কোনো পদক্ষেপ করা হচ্ছে, ততদিন সংসদজুড়ে রাজনৈতিক চাপ বহাল রাখা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই তুমুল হট্টগোল
সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই বাদল অধিবেশন ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা। কিন্তু অধিবেশনের প্রথম দিনেই NEET-UG 2026 প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ট্রাস্টের অনুদানে দুর্নীতির অভিযোগে তুমুল হট্টগোল শুরু করে দেন কংগ্রেসসহ বিরোধী দলের সাংসদরা। বিরোধীদের তীব্র বিক্ষোভ ও স্লোগানের জেরে সংসদের দুই কক্ষের কার্যক্রমই দিনের মতো মুলতুবি রাখতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ।

হট্টগোলের মধ্যেই একাধিক নতুন বিল পেশ
সংসদের অন্দরে এই তুমুল প্রতিবাদের আবহেই লোকসভায় বিরোধীদের হট্টগোলকে উপেক্ষা করে ‘সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতি সংখ্যা) সংশোধনী বিল, ২০২৬’ পেশ করেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। ১৯৫৬ সালের মূল আইন সংশোধন করে এই বিলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির অনুমোদিত সংখ্যা ৩৩ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ করার প্রস্তাব আনা হয়েছে, যা কেন্দ্রের পূর্ববর্তী অধ্যাদেশকে প্রতিস্থাপন করবে।

পাশাপাশি, এই অধিবেশনেই রাজ্যসভায় ‘জাতীয় প্রতীকের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ পেশ করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। ১৯৭১ সালের পুরনো আইন সংশোধন করে এই প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রতি কোনো ধরনের অবমাননা বা বাধাদানের ঘটনাকে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

সব মিলিয়ে, প্রশ্নফাঁস বিতর্ক থেকে শুরু করে রাম মন্দির ট্রাস্টের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল সংসদের অন্দরমহল। বিরোধীরা পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছে যে, আগামী দিনেও অধিবেশন চলাকালীন সরকারের উপর চাপ বজায় রাখতে তাঁরা একচুলও পিছপা হবেন না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *