‘ভিক্টোরিয়ায় এমনিই ভিড় হয়!”, -মতার ২১শের সভা নিয়ে আর কী বললেন শমীক?

২১শে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের ভিড় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোটের ডাককে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। এদিন খাস কলকাতায় আড়াই বর্গকিলোমিটারের মধ্যেই তিনটি পৃথক রাজনৈতিক সভা অনুষ্ঠিত হয়—বিড়লা তারামণ্ডলের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা, মেয়ো রোডে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং শহিদ মিনার ময়দানে কংগ্রেসের সভা। সমস্ত সভা ছাপিয়ে ভিড়ের দিক থেকে তৃণমূলের শিবির এগিয়ে থাকলেও, একে সরাসরি ‘ভিক্টোরিয়া-নন্দন চত্বরের স্বাভাবিক ভিড়’ বলেই কটাক্ষ করেছেন শমীক।

১. ভিড় নিয়ে মমতার শিবিরকে খোঁচা শমীকের

এদিন মমতার সভার ভিড় নিয়ে তৃণমূলের দাবি উড়িয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “সভা কি ব্রিগেড গ্রাউন্ডে হয়েছে? ওটা ভিক্টোরিয়া-নন্দন চত্বর। সেখানে এমনিতেই ওই সময়ে লোকজনের যাতায়াত থাকে, মানুষ বেড়াতে যান। তাছাড়া আজ কলকাতায় গরম নেই, মনোরম আবহাওয়া। তাই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে কিছু মানুষ গিয়ে থাকলে ভালোই করেছেন।” সেই সঙ্গে তিনি জানান, প্রতিবারের একুশের চেনা ছবি এদিনের মতো দেখা যায়নি; হাওড়া বা শিয়ালদা স্টেশনেও কোনো বাড়তি চাপ ছিল না, কলকাতার রাজপথও ছিল সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত।

২. “হরিনাম খাবলা খাবলা,” তীব্র আক্রমণ শমীকের

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে শমীক বলেন, তৃণমূল এখন কোন মালিকের হাতে যাবে তা নিয়ে নিজেদের মধ্যেই মারামারি চলছে। তাঁর কথায়,

“বাংলায় একটা প্রবাদ আছে—হরিনাম খাবলা খাবলা। তৃণমূলের বর্তমান অবস্থা ঠিক সেটাই। একুশে জুলাই যাঁদের স্মরণে করা হয়, সেই আত্মারা আজ স্বর্গ থেকে চমকে উঠছেন আর ভাবছেন আমাদের মঞ্চে এগুলো কী হচ্ছে! একুশে জুলাইয়ের মূল ভাবনার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই।”

৩. জোটের ডাককে ‘পরজীবী’ রাজনীতি বলে কটাক্ষ

এদিনের সভা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত বিরোধী শক্তিকে একসঙ্গে জোট বাঁধার আহ্বান জানান। এই প্রসঙ্গে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শমীক বলেন, “টিএমসি-র কোনো ভবিষ্যৎই নেই, দলটাই তো আর আগের মতো নেই। আম আদমি পার্টি এদের হাত ধরেছিল, ফল কী হয়েছে সবাই দেখেছে। মমতা কি তবে সবাইকে একত্রিত করে এখন পরজীবী হতে চাইছেন? এটা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে, তিনি তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। অথচ আজ তাঁকে অন্যের হাত ধরতে হচ্ছে! বিরোধী দলগুলিকে এক করার আগে নিজের দলের ভাইদের আগে সংঘবদ্ধ করার পরামর্শ দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *