ভোপালে মর্মান্তিক পরিণতি! স্বামীর মৃত্যুর শোক সামলাতে না পেরে আত্মহত্যা করলেন এইমস-এর নার্সিং অফিসার

ভোপাল: মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। অবধপুরী থানা এলাকার সুভাষ ভিলা কলোনিতে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৩৪ বছর বয়সী দিব্যা। তিনি ভোপালের নামী প্রতিষ্ঠান এইমস-এ নার্সিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।
অবুঝ শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠল পরিবেশ
এই ঘটনার সবচেয়ে আবেগঘন ও মর্মান্তিক মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন দিব্যার দুই শিশু সন্তান স্কুল থেকে বাড়ি ফেরে। সে সময় পুলিশ ও ফরেনসিক দল ঘরের ভেতরে তদন্ত চালাচ্ছিল। মায়ের মৃত্যুর খবর সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ৮ বছর বয়সী ছেলে এবং ৩ বছর বয়সী ছোট মেয়ে বাড়ি ফিরে মাকে খুঁজতে শুরু করে।
নিষ্পাপ শিশুরা বারবার পুলিশ কর্মীদের কাছে হাত জোড় করে মিনতি করতে থাকে, “পুলিশ আঙ্কেল, আমরা মায়ের কাছে যেতে চাই। আমাদের ভেতরে যেতে দিন।” মা-হারা এই দুই অবুঝ শিশুর বিলাপ ও নিষ্পাপ কান্না দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মী থেকে শুরু করে প্রতিবেশীদেরও চোখ ছলছলে হয়ে ওঠে। অকালপ্রয়াত মায়ের মৃত্যুর পর এই দুই শিশুর ভবিষ্যৎ এখন গভীর অন্ধকারের মুখে।
স্বামীর মৃত্যুর শোকই কি কাল হলো?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিব্যা মূলত তামিলনাড়ুর বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর জীবনে এর আগেই নেমে এসেছিল বড় বিপর্যয়। প্রায় দুই মাস আগে তামিলনাড়ুতেই তাঁর স্বামী সুরেশ এক রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা যান। স্বামীর আকস্মিক ও অকাল মৃত্যু মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছিল দিব্যাকে।
স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার কঠিন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন দিব্যা। তিনি তামিলনাড়ু ছেড়ে ভোপালে চলে আসেন এবং ভোপালের এইমস-এ নার্সিং অফিসারের চাকরি শুরু করেন। সন্তানদের দেখভালের জন্য তিনি বাড়িতে একজন কেয়ারটেকার বা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করেন এবং কাছাকাছি একটি নামী স্কুলেও তাদের ভর্তি করে দেন।
ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল?
সোমবার সকালে বরাবরের মতো দিব্যা নিজের দুই সন্তানকে যত্ন করে তৈরি করে স্কুলে পাঠান। সন্তানরা স্কুলবাসে ওঠার পর তিনি নিজের ঘরে প্রবেশ করেন এবং ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন।
কিছুক্ষণ পর তত্ত্বাবধায়ক যখন সকালের জলখাবার তৈরি করার জন্য দিব্যাকে ডাকতে যান, তখন ভেতর থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরেও দরজা না খোলায় তাঁর মনে মারাত্মক সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তিনি তৎক্ষণাৎ প্রতিবেশীদের খবর দেন এবং পুলিশে ফোন করেন।
খবর পেয়ে অবধপুরী থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তাঁরা দিব্যাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে মরদেহ নামিয়ে প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
পুলিশি তদন্ত শুরু
ঘটনার খবর পেয়ে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল)-এর একটি বিশেষজ্ঞ দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করে। পুলিশ তামিলনাড়ুতে বসবাসকারী দিব্যার বাপের বাড়ির লোকজনকে সমস্ত ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই দিব্যা তীব্র মানসিক চাপ ও অবসাদের (ডিপ্রেশন) শিকার হয়েছিলেন। তবে ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও কিছু স্পষ্ট করেনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা।