জালে টান দিতেই চক্ষু চড়কগাছ! চন্দ্রকোনায় মাছের জালে ধরা পড়ল ১৫ ফুটের বিরাট অজগর

নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়া কৃষিজমিতে ভেসে আসা মাছ ধরার আশায় জাল ফেলেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু জালে টান দিতেই অন্যরকম ঠেকল। প্রথমে ভারী কোনো মাছ আটকেছে মনে করা হলেও, জালে যা দেখা গেল তাতে স্থানীয়দের চক্ষু চড়কগাছ! দেখা গেল, জালে আটকে রয়েছে প্রায় ১৫ ফুট লম্বা এক বিরাটাকার অজগর। এই ঘটনায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায়। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় বন দফতরে, আর বনকর্মীরা এসে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে নিয়ে যান।

বৃষ্টির জলে ভাসল মেদিনীপুর, চন্দ্রকোনায় মিলল অজগর
গত সোমবার সকাল থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় টানা বৃষ্টি শুরু হয়, যা দুপুরের পর আরও তীব্র রূপ নেয়। নাগাড়ে বর্ষণে জলমগ্ন হয়ে পড়ে এলাকার একাধিক গ্রাম। রাস্তায় হাঁটুসমান জল জমে যাওয়ার পাশাপাশি মেদিনীপুরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড এবং খড়্গপুর রেল স্টেশনের আন্ডারপাসসহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এই চরম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই চন্দ্রকোনা পৌরসভার ঠাকুরবাড়ি বাজার সংলগ্ন মাধবপুর কুমোরপাড়া এলাকায় প্রায় ১৫ ফুট দৈর্ঘ্যের ওই অজগরটি উদ্ধার হয়। বৃষ্টির মধ্যেই বিশাল আকৃতির এই সাপটিকে দেখতে ভিড় জমান কৌতূহলী এলাকাবাসী।

কী বলছেন স্থানীয়রা ও বন আধিকারিকরা?
স্থানীয় বাসিন্দা সৌরভ পাল জানান, “সকালবেলায় খবর পেয়ে দৌড়ে আসি দেখতে ৷ দেখে মনে হচ্ছে এটি অজগর সাপ । বন দফতরকে ইতিমধ্যে খবর দেওয়া হয়েছে । আমরা সবাই চাই সাপটিকে সুস্থ করে ফিরিয়ে দেওয়া হোক জঙ্গলে । আমাদের মনে হয়, কোনও কারণে জলের তোড়ে ভেসে চলে এসেছে এবং এসে মাছের জালে আটকে যায় সাপটি ।”

এ বিষয়ে এক বন আধিকারিক জানিয়েছেন, “যে পরিমাণে জল হয়েছে, তা থেকেই হয়তো এই সাপটি কোনও জঙ্গল থেকে জলের তোড়ে ভেসে চলে এসেছে । এরপর মাছ খেতে গিয়ে জালে আটকে যায় । আমরা সেটিকে উদ্ধার করেছি, একে সুস্থ করে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে ৷”

উল্লেখ্য, জঙ্গলমহল অধ্যুষিত পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ও ঘাটালে বন্যার সময় প্রতিবারই প্রচুর পরিমাণে সাপের উপদ্রব বাড়ে এবং সাপে কাটা রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। এই স্থায়ী সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অবিলম্বে ‘ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান’ রূপায়ণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *