‘প্রতিদিন একই প্রশ্ন করবেন না’, ২১ জুলাইয়ের ভিড় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মেজাজ হারা হলেন চন্দ্রিমা

কলকাতায় এবারের একুশে জুলাই শহিদ দিবস পালনে দেখা গেল সম্পূর্ণ এক অভিনব এবং বেনজির রাজনৈতিক চিত্র। শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে মঙ্গলবার শহিদ স্মরণকে কেন্দ্র করে কলকাতার মোট চারটি পৃথক স্থানে সভার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী-সমর্থক নিয়ে জনসভার অনুমতি পেয়েছে মূল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে, মেয়ো রোডে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সম্পূর্ণ পৃথক সভার আয়োজন করেছে ঋতব্রত-শিবির। এই বহুমুখী ও ভিন্নধর্মী আয়োজন ঘিরে সকাল থেকেই রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ও উত্তেজনার পারদ ছিল চড়ে।
ঋতব্রত শিবিরের সভা ও কুণাল ঘোষের কটাক্ষ
সকাল থেকেই ঋতব্রত-শিবিরের সভাস্থলে একে একে উপস্থিত হতে শুরু করেন তাঁদের সমর্থক বিধায়ক ও নেতারা। তবে বেলা ১১টা পর্যন্ত সভাস্থলে আশানুরূপ ভিড় দেখা যায়নি। বিভিন্ন জেলা থেকে কিছু সমর্থক এলেও সভার শুরুর দিকে বসার আসনগুলোর অনেকটাই ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে অবশ্য সময় গড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা কর্মী-সমর্থকদের ভিড় বাড়ে এবং চেয়ারগুলো পূর্ণ হতে শুরু করে। আয়োজকদের দাবি, দূরদূরান্ত থেকে আসা বহু কর্মী পথে বিভিন্ন জায়গায় আটকে থাকায় শুরুতে লোকসমাগম কিছুটা কম ছিল।
এদিকে, এই পরিস্থিতিকে হাতছাড়া করতে ছাড়েনি মূল কালীঘাটপন্থী শিবির। দলের পক্ষ থেকে কুণাল ঘোষ তীব্র আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেন, ঋতব্রত-শিবিরের সভায় প্রত্যাশিত জনসমাগম হয়নি। তাঁর সাফ কথা, তৃণমূল কংগ্রেসের মূল কর্মসূচিতেই সাধারণ মানুষের আসল আগ্রহ রয়েছে এবং এই পৃথক সভা সাধারণ মানুষের মাঝে কোনো সাড়াই ফেলতে পারেনি। কুণালের এই মন্তব্যের পরেই দুই শিবিরের রাজনৈতিক তরজা নতুন মাত্রা নেয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে মেজাজ হারালেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য
এই সার্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এবারের একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি আগের বছরের তুলনায় কতটা আলাদা। এই প্রশ্ন শোনা মাত্রই স্পষ্ট বিরক্তি প্রকাশ করেন চন্দ্রিমা। তিনি কড়া সুরে বলেন, “এই এক কথা রোজ রোজ বলতে ভালো লাগে না। সরকার আমাদের সভা করার অনুমতি দিয়েছে। সেই জায়গায় শহিদ স্মরণ করতে এসেছি।” চন্দ্রিমার এই প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট যে, তিনি এই অনুষ্ঠানটিকে কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের রিং হিসেবে দেখতে নারাজ, বরং একে শুধুই শহিদ স্মরণের অনুষ্ঠান হিসেবেই তুলে ধরতে চেয়েছেন। একই প্রশ্ন বারবার করায় তিনি নিজের অসন্তোষ চেপে রাখেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই দিনে শাসকদলের এমন পৃথক ও বিভক্ত কর্মসূচি এবং তার জেরে তৈরি হওয়া চাপানউতোর আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে।