দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনে হামলা? ভিডিও ভাইরাল হতেই আসল সত্যিটা সামনে আনল রেলওয়ে!

সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি একটি ট্রেনের ওপর পাথর ছোঁড়ার ভিডিও ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে। দাবি করা হচ্ছিল যে, এটি দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন, যার ওপর তেলাপোকা জনতা পার্টি (CJP) এবং তাদের সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে। তবে বিস্তারিত তদন্ত ও রেলের বিবৃতির পর এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। নর্দান রেলওয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ভিডিওতে যে ট্রেনটিকে দেখা যাচ্ছে তা আদতে কোনও হাইড্রোজেন ট্রেন নয়।

ঠিক কী দেখা গিয়েছিল ভাইরাল ভিডিওটিতে?
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি ট্রেন স্টেশনে প্রবেশ করার সময় প্ল্যাটফর্ম ও আশপাশে থাকা কিছু মানুষ সেটিতে একের পর এক পাথর ছুড়ছে। ভিডিওটিতে পাথর ছোঁড়ার দৃশ্য পরিষ্কার থাকলেও—

স্টেশনটির নাম বা ঘটনার নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ ছিল না।

ভিডিওতে দেখানো ট্রেনটির সঠিক পরিচয়ও গোপন ছিল।
ফলে প্রথম থেকেই এর স্থান ও সময় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল এবং সোশাল মিডিয়ায় ভুল তথ্য ছড়াতে শুরু করে।

সিজেপি বিক্ষোভের সঙ্গে যোগের দাবি ও রেলের স্পষ্টীকরণ
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরই কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট দাবি করে যে, এটি ভারতের প্রথম দেশীয় হাইড্রোজেন ট্রেনের ওপর হামলা এবং যন্তর মন্তরে তেলাপোকা জনতা পার্টির (CJP) চলমান আন্দোলনের সঙ্গেই এর সরাসরি যোগ রয়েছে। এই ভুয়া দাবির ভিত্তিতে বহু ব্যবহারকারী সিজেপি ও তাদের নেতাদের তীব্র আক্রমণ করেন।

“ভিডিওতে থাকা ট্রেনটি হাইড্রোজেন ট্রেন নয়… এটি WAG 12 লোকোমোটিভ দ্বারা চালিত একটি ট্রেন। এটি সম্ভবত একটি পুরনো ভিডিও। হাইড্রোজেন ট্রেনটি নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী চলছে।” — নর্দান রেলওয়ে (২০ জুলাই, ২০২৬)

নর্দান রেলওয়ের এই স্পষ্টীকরণের পর সব জল্পনার অবসান ঘটে। রেল জানায়, ভিডিওতে যে ইঞ্জিনটি দেখা যাচ্ছে তা হাইড্রোজেন ট্রেনের নয়, বরং এটি একটি WAG-12 বৈদ্যুতিক মালবাহী লোকোমোটিভ দ্বারা চালিত ট্রেন। ভিডিওটি সম্ভবত বেশ পুরনো এবং দেশের আসল হাইড্রোজেন ট্রেনটি তার নিজস্ব নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে।

WAG-12 লোকোমোটিভ সম্পর্কে কিছু তথ্য
রেল কর্মকর্তা এবং সচেতন নেটিজেনদের মতে, ভিডিওর ইঞ্জিনটি ১২,০০০ হর্সপাওয়ারের শক্তিশালী WAG-12 ইলেকট্রিক ফ্রেইট লোকোমোটিভ, যা ভারতীয় রেল এবং অ্যালস্টমের (Alstom) যৌথ উদ্যোগে বিহারের মাধেপুরার কারখানায় তৈরি করা হয়েছিল। সুতরাং, ভুল তথ্যের জেরে তৈরি হওয়া এই বিভ্রান্তি এখন পুরোপুরি পরিষ্কার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *