মৃত্যুকে একেবারে চোখের সামনে দেখলেন বাইকার! পাহাড়ের রাস্তায় চোখের পলকে যা ঘটল, দেখলে শিউরে উঠবেন!

বৃষ্টির দিনে পাহাড়ের সুন্দর উপত্যকা দিয়ে বাইক চালানো অনেক বাইকারের কাছেই রোমাঞ্চকর ও স্বপ্নের মতো। তবে সামান্য অসাবধানতা এবং অতিরিক্ত গতি যে মুহূর্তেই আনন্দকে বিষাদে বদলে দিতে পারে, তার আরও এক চরম প্রমাণ মিলল পাহাড়ি রাস্তায়। পশ্চিমবঙ্গের কার্শিয়াংয়ে ঘটে যাওয়া এমনই এক লোমহর্ষক ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত নেটিজেনরা।
ঠিক কী ঘটেছিল কার্শিয়াং ভিউ পয়েন্টের কাছে?
শিলিগুড়ি ও দার্জিলিংয়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত জনপ্রিয় শৈলশহর কার্শিয়াংয়ের ভিউ পয়েন্টের কাছে সম্প্রতি এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, নীল রঙের রেইনকোট পরা এক যুবক বৃষ্টিভেজা ও পিচ্ছিল পাহাড়ি রাস্তায় অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বাইক চালাচ্ছিলেন।
পাহাড়ের একটি তীব্র এবং বিপজ্জনক বাঁকে মোড় নিতে গিয়ে তিনি বাইকের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেন। ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়ে বাইকটি সজোরে ধাক্কা খায় রাস্তার পাশের একটি পাথরে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ধাক্কার ঠিক অপর পাশেই ছিল শত শত ফুট গভীর এক অন্ধকার গিরিখাত!
জুতো ছিটকে গেল বাতাসে, রক্ষা পেল জীবন
দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ভয়ংকর ছিল যে, বাইকচালকের পায়ের জুতো পর্যন্ত বাতাসে উড়ে বহু দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে। সৌভাগ্যবশত, ওই ধাক্কার পর তিনি সরাসরি খাদে না পড়ে রাস্তার ওপরেই ছিটকে পড়েন। ফলে অল্পের জন্য মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন তিনি। তবে তাঁর সাধের বাইকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচের দিকে গড়িয়ে পড়ে যায়।
নেটদুনিয়ায় ঝড়ের বেগে ভাইরাল ভিডিও
ভয়ংকর এই ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন জয়গাঁও-এর ডিজিটাল ক্রিয়েটর বাপ্পি বর্মন। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই তা ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায় এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে যায়।
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া: ভিডিওটি দেখে এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এটি যমরাজের একটি মিসড কল ছিল, যা সৌভাগ্যবশত রিসিভ হয়নি!” * অন্য এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “লোকটি নিজের জীবনের চেয়ে বাইকটি নিয়ে বেশি চিন্তিত ছিল, কোনোমতে উঠে সে বাইকটার খোঁজ করতে শুরু করে।”
অধিকাংশ নেটিজেনই পাহাড়ি রাস্তায় এমন বেপরোয়া বাইক চালানো এবং ট্রাফিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখানোর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, পাহাড়ে অতিরিক্ত গতি এবং অসাবধানতা সরাসরি মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানানোর সমান।