পেট্রোল পাম্পে বড় স্বস্তি! E25 বা E30 নয়, এখনই জ্বালানি নীতি বদলাচ্ছে না কেন্দ্র—জানুন আসল কারণ

দেশের পেট্রোল চালক ও গাড়িমালিকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। এখনই পেট্রোলে ইথানল মেশানোর মাত্রা ২০ শতাংশ (E20)-এর বেশি বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই কেন্দ্রের। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের রাষ্ট্রে মন্ত্রী সুরেশ গোপী রাজ্যসভায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, E25 বা E30 পেট্রোল চালুর বিষয়ে সরকার এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ভবিষ্যতে ইথানলের মাত্রা বাড়ানোর বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং গাড়ি নির্মাতা ও জ্বালানি গবেষকদের সঙ্গে আলোচনার ওপর।
ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচির সাফল্য
নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর আগেই ভারত ২০ শতাংশ ইথানল-ব্লেন্ডিং লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে যেখানে গড় ইথানল মিশ্রণ ছিল মাত্র ১.৫৩%, সেখানে ২০২৫-২৬ সালের সরবরাহ বর্ষে তা এসে দাঁড়িয়েছে ২০% এ। সরকারের দাবি, এই কর্মসূচির ফলে দেশ একাধিক সুবিধা পেয়েছে:
প্রায় ১.৯৭ লক্ষ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে।
প্রায় ৩১৬ লক্ষ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি হ্রাস পেয়েছে।
প্রায় ৯৫২ লক্ষ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন কমানো সম্ভব হয়েছে।
কৃষকদের আয় ১.৬৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
পুরনো গাড়ি ও বাইকের ওপর E20-এর প্রভাব নিয়ে সংশয়
গাড়ির গ্যারেজ থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া—সব জায়গাতেই E20 পেট্রোল বাইক বা পুরনো গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি করছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। বহু চালক রাফ আইডলিং বা কম মাইলেজ পাওয়ার জন্য ইথানলকে দায়ী করছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, E20 ব্যবহারের ফলে ইঞ্জিন ফেল করা, জং ধরা বা জ্বালানি পাম্প নষ্ট হওয়ার মতো কোনো ব্যাপক ও যাচাইকৃত অভিযোগ এখনও পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে দেশে ২০ কোটিরও বেশি দু’চাকা এবং তিন কোটির বেশি পেট্রোল চালিত চার চাকার গাড়ি ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোলেই চলছে। তবে যে সমস্ত গাড়ি শুধু E10-এর জন্য তৈরি, সেগুলোতে সামান্য (৩% থেকে ৫%) মাইলেজ কম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। অর্থাৎ, যে গাড়ি ১৫ কিমি প্রতি লিটার মাইলেজ দেয়, তা কিছুটা কমে ১৪.২৫ কিমি প্রতি লিটার হতে পারে।
আলাদা পেট্রোল নয়, ওয়ারেন্টি বহাল থাকবে
সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, পেট্রোল পাম্পগুলোতে আলাদা করে বিশুদ্ধ পেট্রোল বা কম মিশ্রণের (E10) জ্বালানি বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ, এর জন্য আলাদা সংরক্ষণ ও পরিবহণ পরিকাঠামো গড়তে গেলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে। একইসঙ্গে কেন্দ্র নিশ্চিত করেছে যে, গ্রাহকরা কমপ্লায়েন্ট E20 জ্বালানি ব্যবহার করলে গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো তাদের ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টি সম্পূর্ণভাবে বজায় রাখবে।