অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বড় আপডেট! কলকাতার সফর শেষে আর কী কী গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে জানেন কি?

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission)। ইতিমধ্যেই কলকাতা ও ভুবনেশ্বরে তাদের নির্ধারিত সফর সফলভাবে সম্পন্ন করেছে কমিশন। গত ৩ নভেম্বর ২০২৫-এ গঠিত হওয়ার পর থেকে কমিশন বর্তমানে তার কার্যক্রমের নবম মাসে পদার্পণ করেছে। যার অর্থ দাঁড়াল, অষ্টম বেতন কমিশনের জন্য নির্ধারিত মোট ১৮ মাস মেয়াদের প্রায় অর্ধেক সময় শীঘ্রই অতিবাহিত হতে চলেছে। আর এর সঙ্গেই আগামী দিনে কমিশনের সুপারিশ ও কার্যপরিধি নিয়ে কর্মচারীদের মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

বেতন কমিশনের কার্যপরিধি ও পেনশন বিতর্ক
অষ্টম বেতন কমিশন যখন তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে চলেছে, তখন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আরও আলোচনা ও পরামর্শের আসর বসার কথা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের কার্যপরিধি (Terms of Reference – ToR) বা পেনশন সংক্রান্ত বিধানগুলো নিয়ে। সরকারের প্রকাশিত গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) এবং ইউনিফাইড পেনশন স্কিম (UPS)-এর আওতাধীন সুবিধাগুলো পর্যালোচনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে; অথচ দেশের বিশিষ্ট কর্মচারী ও পেনশনভোগী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ‘ওল্ড পেনশন স্কিম’ (OPS) বা পুরনো পেনশন ব্যবস্থা অবিলম্বে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছে।

গেজেটের মূল বিষয়: বিদ্যমান পেনশন কাঠামো পর্যালোচনা
২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, অষ্টম বেতন কমিশনকে UPS এবং NPS—উভয় ব্যবস্থার আওতাভুক্ত কর্মচারীদের গ্র্যাচুইটি ও পেনশন-সংক্রান্ত সুবিধাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। এছাড়া এই স্কিমগুলোর আওতা-বহির্ভূত কর্মচারীদের পেনশনের বিধানগুলোও কমিশনকে সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, ‘নন-কন্ট্রিবিউটরি’ (যেখানে কর্মচারীর নিজস্ব অবদান বা চাঁদা প্রয়োজন হয় না) পেনশন ব্যবস্থার জেরে সরকারের ওপর তৈরি হওয়া অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বা ব্যয়ের বিষয়টিও কমিশনকে মাথায় রাখতে বলা হয়েছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সরকারের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও এনপিএস (NPS) বা ইউপিএস (UPS)-এর পরিবর্তে ওপিএস (OPS) চালুর কোনো উল্লেখ নেই। অর্থাৎ, বিদ্যমান পেনশন ও গ্র্যাচুইটি সুবিধা পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনে সেগুলোর মান উন্নয়নের সুপারিশ করার মাঝেই অষ্টম বেতন কমিশনের এখতিয়ার সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

ওপিএস (OPS) পুনর্বহালের দাবিতে সোচ্চার কর্মী সংগঠনগুলি
দেশের বর্তমান পেনশন ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়ে সরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন ও সংগঠনগুলো সোচ্চার হয়েছে। অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে পেশ করা স্মারকলিপিতে ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল–জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি’ (NC-JCM)-এর কর্মচারী প্রতিনিধিরা (Staff Side) এনপিএস এবং ইউপিএস ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে পুরনো পেনশন নীতি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে।

তাঁদের প্রধান যুক্তি হলো, এনপিএস (NPS)-এর আওতায় অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধাগুলো সম্পূর্ণভাবে শেয়ার বাজারের অস্থিরতার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় কর্মীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। বিশেষ করে ১ জানুয়ারি ২০০৪ সালের পর থেকে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা অত্যন্ত বৈষম্যমূলক বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পাশাপাশি কর্মী সংগঠনগুলি আরও উল্লেখ করেছে যে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে ইউপিএস (UPS) চালু হওয়া সত্ত্বেও প্রায় ২৬ লক্ষ এনপিএস গ্রাহকের মধ্যে মাত্র ১.২২ লক্ষ কর্মী (অর্থাৎ মাত্র ৪.৫ শতাংশ) এই স্কিমটি বেছে নিয়েছেন, যা এককথায় এই নতুন স্কিমের প্রতি সাধারণ কর্মীদের সীমিত আগ্রহ ও গ্রহণযোগ্যতারই স্পষ্ট প্রতিফলন। অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বিভিন্ন সংগঠনও একই সুরে ওপিএস (OPS) পুনর্বহালের দাবি তুলেছে অথবা অন্ততপক্ষে ন্যূনতম পেনশনের শতভাগ নিশ্চয়তা, সরকারের উচ্চতর অবদান এবং অবসর-পরবর্তী আর্থিক সুরক্ষার জোরালো দাবি জানিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সমস্ত পক্ষের দাবি মেনে অষ্টম বেতন কমিশন ও কেন্দ্র সরকার শেষ পর্যন্ত কী ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান নিয়ে আসে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *