ভাঙল দীর্ঘ ১৫ বছরের ঐতিহ্য! একুশের মেগা সমাবেশে কি তবে পাতে আর পড়ছে না তৃণমূলের সেই বিখ্যাত ‘ডিম-ভাত’?

শহিদদের স্মরণে একুশে জুলাইয়ের (21 July Martyrs’ Day) রাজনৈতিক ছবিটা এবার পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। রাজ্যের পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের বিভাজন প্রকাশ্যে আসায় চলতি বছরে এই দিনটি পালিত হচ্ছে একেবারে নতুন আঙ্গিকে। শহরের তিনটি আলাদা জায়গায় পৃথকভাবে পালিত হচ্ছে একুশের কর্মসূচি। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং পাশাপাশি ময়দানে রয়েছে কংগ্রেসও। রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল যেমন তুঙ্গে, তেমনই তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে এই তিন জায়গায় আগত কর্মী-সমর্থকদের জন্য খাবারের এলাহি আয়োজন বা মেনু নিয়ে।

ডিম-ভাতের চেনা ঐতিহ্য ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
বাংলায় রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের অনেক আগে থেকেই একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ করে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শহিদ দিবসের পরিধি ও বহর অনেকটাই বৃদ্ধি পায়। বিগত বছরগুলোতে একুশে জুলাইয়ের কয়েক দিন আগে থেকেই দূরদূরান্তের জেলা থেকে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক কলকাতায় এসে পৌঁছাতেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে তাঁদের থাকার সুব্যবস্থা করা হতো এবং দলের তরফে খাবারের আয়োজন করা হতো। বিশেষ করে, একুশের সমাবেশে আগত কর্মীদের জন্য ‘ডিম-ভাত’ মেনুটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল, যা রীতিমতো ঐতিহ্যশালী রূপ নেয়।

তবে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ায় এবার সেই চিরচেনা ছবিতে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে।

কালীঘাট তৃণমূল শিবিরে খাবারের বন্দোবস্ত নেই
আদালতের নির্দেশ মেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে ছোট্ট পরিসরে শহিদ দিবস পালনের অনুমতি পেয়েছে। তবে সেখানে আড়াই হাজারের বেশি কর্মী-সমর্থক জমায়েত করার অনুমতি নেই। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কর্মীদের থাকা-খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, কালীঘাট তৃণমূলের তরফে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এ বছর কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মী-সমর্থকদের জন্য কোনও খাবারের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে না।

যদিও দলের নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, “কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে। সমস্ত জায়গায় বাধার সৃষ্টি করা হলেও কর্মীরা নিজেদের মতো করে ঠিক পৌঁছে যাবেন।”

ঋতব্রত শিবিরে ডিম-ভাতের বহর ও চমক
কালীঘাট শিবির বড় কোনো খাবারের আয়োজন না রাখলেও, চমকপ্রদভাবে এই ঐতিহ্য বজায় রেখেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। এতদিন তৃণমূলের শহিদ দিবসের আয়োজনে যে ‘ডিম-ভাত’ থাকত, ঋতব্রত শিবির এবার সেটাই ধরে রেখেছে। শুধু তাই নয়, কর্মী-সমর্থকদের পাতে ডিম-ভাতের পাশাপাশি পুষ্টিকর ‘সয়াবিনের তরকারি’ রাখারও বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র সহ শহরের কিছু গেস্ট হাউসে জেলা থেকে আসা কর্মীদের থাকার ব্যবস্থাও করেছে এই শিবির।

কংগ্রেসের মেনুতে কী রয়েছে?
দীর্ঘদিন পর প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেসও এবার জাঁকজমকপূর্ণভাবে একুশে জুলাই পালন করছে। হাত শিবিরের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ধর্মশালা ও ভিন্‌ জেলা থেকে আসা কর্মীদের জন্য বিশেষ রান্নার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। হরিয়ানা ভবন, মাহেশ্বরী ভবন এবং কলকাতা পৌরনিগমের অতিথিশালায় মূলত নিরামিষ রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে ভাত, ডাল ও পাঁচমিশেলি তরকারি দেওয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি সল্টলেক স্টেডিয়াম ও কলকাতা স্টেশন চত্বরে স্থানীয়ভাবে তৃণমূল স্তরে আসা কর্মী ও সাধারণ মানুষের জন্য চা-পাউরুটি, ডিম এবং মাছ-ভাতেরও সুব্যবস্থা করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। সবমিলিয়ে, একুশের এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি পাতে কী পড়ছে, তা নিয়েও শহরজুড়ে চলছে জল্পনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *