তারকেশ্বর নয়, মালদহের এই মন্দিরে দিনে দিনে বাড়ছে শিবলিঙ্গের আকার! শ্রাবণে উপচে পড়ছে ভক্তদের ভিড়!

শ্রাবণ মাস শুরু হতেই চারদিক মুখরিত দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনায়। প্রতি বছর এই পবিত্র মাসে ভক্তরা তারকেশ্বর ধামে গিয়ে দেবাদিদেবের মাথায় জল ঢাললেও, রাজ্যের অন্যপ্রান্তেও রয়েছে একাধিক ঐতিহাসিক ও অলৌকিক শিবক্ষেত্র। তেমনই মালদহের বামনগোলা ব্লকের নালাগোলা এলাকার ঐতিহ্যবাহী ‘শিবডাঙ্গি মন্দির’ ঘিরে এখন বইছে ভক্তির জোয়ার। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এখানকার প্রাচীন শিবলিঙ্গটি নাকি ধীরে ধীরে আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বদলে ফেলছে তার রূপ! আর এই অদম্য বিশ্বাসকে পুঁজি করেই প্রাচীন এক বিশাল বটবৃক্ষের তলায় শ্রাবণের প্রথম সোমবারে কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় জমিয়েছেন বাবা মহাদেবকে জল ঢালার জন্য।
৫০০ বছরের প্রাচীন বটবৃক্ষ ও শিবলিঙ্গের রহস্য
মালদহ শহর থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক শিবমন্দিরটিকে ঘিরে রয়েছে প্রায় পাঁচশো বছরেরও বেশি পুরনো এক বিশাল বটবৃক্ষ। ওই প্রাচীন বটের ঝুড়ির সঙ্গেই অলৌকিক ভাবে জড়িয়ে রয়েছে মূল প্রাচীন শিবলিঙ্গটি। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, মন্দিরের এই শিবলিঙ্গটি দিন দিন আকারে বেড়েই চলেছে। সারা বছরই কম-বেশি ভক্তদের সমাগম ঘটলেও, পবিত্র শ্রাবণ মাস আসতেই এই মন্দিরে ভক্তদের ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শ্রাবণের প্রথম সোমবারের সকালে নিয়ম মেনে জলাভিষেক ও পুজো দিতে হাজার হাজার ভক্তকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গিয়েছে।
লোহার কাঁটা বিছানো পথে কঠোর দণ্ডী কাটা
মনস্কামনা পূরণের জন্য ভক্তরা এখানে নানা কঠোর ব্রত পালন করে থাকেন। এদিন এক বিশেষ দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে এক পুণ্যার্থী নিজের মানত পূরণের পর প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ পথ লোহার কাঁটা বসানো পিঁড়িতে শুয়ে, অর্থাৎ ‘দণ্ডী কেটে’ সোজা মন্দিরে এসে পৌঁছান। তাঁর এই কঠিন ভক্তি ও ব্রত দেখার জন্য রাস্তার দু’ধারে বহু মানুষের ভিড় জমে যায়।
প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কড়া নজরদারি
শ্রাবণ মাসের এই বিশেষ দিনে পুণ্যার্থীদের বিরাট ভিড় এবং নিরাপত্তার কথা সম্পূর্ণ মাথায় রেখে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্থানীয় কমিটির তরফ থেকে প্রচুর স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছিল। পাশাপাশি, বামনগোলা থানার পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যে দিয়েই এদিন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে শিবডাঙ্গি মন্দিরে সারাদিন ধরে জলাভিষেকের পুণ্য লগ্ন সম্পন্ন হয়।