সিকিমের নির্মীয়মাণ টানেলে ভয়াবহ মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণ! ৭ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু, ভেতরে আটকে অন্তত ১৮!

সিকিমে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল নির্মীয়মাণ টানেল চত্বর। মিথেন গ্যাস (Methane Gas) বিস্ফোরণের জেরে সুড়ঙ্গে হঠাৎ ধস নেমে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় প্রবেশপথ। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যুর (Sikkim Tunnel Explosion) খবর পাওয়া গিয়েছে। শুধু তাই নয়, এখনও সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে রয়েছেন অন্তত ১৮ জন শ্রমিক। ফলে উদ্ধারকাজ দীর্ঘায়িত হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে এই মুহূর্তে জোরকদমে তল্লাশি ও উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) সহ একাধিক দল। সিকিমের নামচি জেলায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

গ্যাস বের করার সময়ই বিস্ফোরণ?
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ওই নির্মীয়মাণ টানেলটি ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন (NHPC)-এর তিস্তা স্টেজ-VI জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতাধীন। প্রাথমিক অনুমান, টানেলের প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস জমে ছিল। সুড়ঙ্গ থেকে সেই জমে থাকা গ্যাস বের করে দেওয়ার কাজ চলার সময়ই আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। যার জেরে সুড়ঙ্গের একটি বড় অংশ ধসে বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই অল্প কয়েকজন শ্রমিক পালিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও, বহু শ্রমিক ভেতরেই আটকা পড়েন।

কেন ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ?
সোমবার বিস্ফোরণের সময় নির্মীয়মাণ টানেলে মোট ২৫ জন শ্রমিক আটকে পড়েছিলেন, যার মধ্যে NHPC-র কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত। জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই ৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে বাকি ১৮ জন শ্রমিককে এখনও নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধারকার্যের পথে সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে সুড়ঙ্গের ভেতরে জমে থাকা মিথেন গ্যাস, তীব্র অক্সিজেনের ঘাটতি, অত্যন্ত কম দৃশ্যমানতা এবং সংকীর্ণ পথ। এই প্রতিকূল পরিবেশের কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষে চাইলেও দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

রাতভর তল্লাশি অভিযান
সোমবার বিকেল প্রায় ৩টা ৪০ মিনিট নাগাদ জেলা প্রশাসন প্রথম এই দুর্ঘটনার খবর পায়। খবর পাওয়ার পরেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় NDRF, SDRF, জেলা পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর কর্মীরা। প্রথমে দমকল কর্মীরা উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও মিথেন গ্যাস ও অক্সিজেনের অভাবে তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় অভিযান মাঝপথে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। এমনকি উদ্ধারকারী দলের বেশ কয়েকজন সদস্যও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে NDRF নামলেও একই জটিলতার কারণে কাজের গতি শ্লথ হয়ে পড়ে।

সিকিম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (SSDMA)-র সরাসরি তত্ত্বাবধানে নামচি জেলা প্রশাসন, NHPC, NDRF, SDRF, সিকিম পুলিশ, দমকল এবং স্বাস্থ্য দফতরের যৌথ উদ্যোগে সারারাত ধরে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের এখনও জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *