১ অগাস্ট থেকেই মিলবে বর্ধিত ১৫০০ টাকা, কাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে টাকা? জানুন

রাজ্যের দুঃস্থ মানুষের জন্য বড়সড় আর্থিক স্বস্তির খবর। বার্ধক্য, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়ানোর কথা রাজ্য বাজেটেই ঘোষণা করেছিল সরকার। এবার সেই সংক্রান্ত অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিও জারি করে দেওয়া হলো। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আগামী ১ অগাস্ট ২০২৬ থেকেই উপভোক্তারা এই বর্ধিত ১,৫০০ টাকা ভাতা হাতে পাবেন। আগের মতোই ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পাঠানো হবে।

কত টাকা বাড়ল এবং কোন প্রকল্পগুলি উপকৃত হবে?

তৃণমূল সরকারের আমলে বার্ধক্য, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে দেওয়া হতো। রাজ্যে পালাবদলের পরে ২২ জুন পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করে নতুন সরকার। সেই বাজেটেই জানানো হয়, বয়স্ক, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকরা সমাজের অন্যতম সুরক্ষিত অংশ। তাঁদের সামাজিক সুরক্ষা আরও সুনিশ্চিত করতে মাসিক পেনশন ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করার কথা ঘোষণা করা হয়।

পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে—

  • ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওল্ড এজ পেনশন স্কিম (বার্ধক্য ভাতা): ১,০০০ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ১,৫০০ টাকা।

  • ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল উইডো পেনশন স্কিম (বিধবা ভাতা): ১,০০০ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ১,১৫০০ টাকা নয়, সরাসরি ১,৫০০ টাকা করা হচ্ছে।

  • ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ডিজ়অ্যাবিলিটিস স্কিম (প্রতিবন্ধী ভাতা): ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হচ্ছে।

জেলা স্তরে তৎপরতা শুরু

ইতিমধ্যেই জেলা স্তরে এই নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে। সমস্ত জেলাশাসক, জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক, প্রজেক্ট রূপায়ণকারী সংস্থা এবং স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিকে (SUDA) নির্দিষ্ট নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যাতে রাজ্যের লক্ষাধিক যোগ্য মানুষের কাছে সংশোধিত পেনশনের টাকা পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই প্রশাসনিক তৎপরতা।

নতুন আবেদন ও যোগ্যতার শর্ত

  • নতুন আবেদন প্রক্রিয়া: যাঁরা প্রথম ‘জনকল্যাণ শিবির’-এ আবেদন করতে পারেননি, তাঁরা আগামীতে আয়োজিত শিবির থেকেই ফর্ম সংগ্রহ করতে পারবেন। এমনকি আবেদনপত্র পূরণ করতেও সাহায্য করবেন সরকারি কর্মীরা। তবে এই মুহূর্তে অফলাইন বা অনলাইনে নতুন করে আবেদন জানানোর প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে, যা শীঘ্রই নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে চালু হবে।

  • কারা সুবিধা পাবেন: সাধারণ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বয়স ৬০ বছর হতে হবে। তবে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বয়স ৫৫ বছর হলেই আবেদনযোগ্য। পাশাপাশি, আবেদনকারীকে এই রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং অন্তত টানা দশ বছর রাজ্যে বসবাস করতে হবে।

  • প্রয়োজনীয় নথিপত্র: এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে ভোটার কার্ড এবং ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের কপি বা অ্যাটেস্টেড জেরক্স জমা দিতে হবে (প্রয়োজনীয় নথির ক্ষেত্রে সরকারি বিধি মেনে চলতে হবে)।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *