প্রেমের পরিণতি নাকি খুন? নিউটাউনের ফ্ল্যাটে তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু, ধোঁয়াশায় পুলিশ

নিউটাউনের চন্ডিবেড়িয়ায় লিভ-ইন পার্টনারের সঙ্গে থাকা এক তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত তরুণীর নাম তৃষা সাহা (২৫), যিনি পেশায় একজন নেটপ্রভাবী (Social Media Influencer) ছিলেন। রবিবার গভীর রাতে ফ্ল্যাট থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘর থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী সৌভিক রায়কেও। বর্তমানে হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই যুবক।
কী জানা যাচ্ছে ঘটনাটি নিয়ে? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ব্যারাকপুরের বাসিন্দা তৃষা গত চার মাস ধরে নিউটাউনের এই ফ্ল্যাটে সৌভিকের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। রবিবার রাতে খবর পেয়ে পুলিশ ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে তৃষার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। সেই একই ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সৌভিককে। পুলিশ জানিয়েছে, সৌভিকের হাতের শিরা কাটা ছিল।
পুলিশি তদন্ত ও রহস্যের জট: প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন থেকেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, বেশ কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে:
-
আঘাতের চিহ্ন: ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার আগেই তরুণীর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং পায়ে ক্ষত লক্ষ্য করা গেছে। এটি ধস্তাধস্তির ফলে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
-
খুন নাকি আত্মহত্যা? সৌভিক কি তৃষাকে মারধর করে ঝুলিয়ে দেওয়ার পর নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে? সব দিকই তদন্তের আওতায়।
-
সাক্ষ্য গ্রহণ: ফ্ল্যাটের মালিক সুদাম মাইতি জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কোনো অশান্তির কথা আগে কখনও শোনা যায়নি। প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সৌভিক বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁর বয়ান এই রহস্য সমাধানে বড় ভূমিকা পালন করবে।
আইনি পদক্ষেপ: পুলিশ সূত্রে খবর, এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ফ্ল্যাটের সমস্ত নথি ও এগ্রিমেন্ট পুলিশ সংগ্রহ করেছে। তরুণীর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সৌভিকের বয়ানের ওপর ভিত্তি করেই ঘটনার আসল সত্য সামনে আসবে বলে আশা তদন্তকারীদের।