পুঞ্চে মেঘভাঙা বৃষ্টির তাণ্ডব! ভেসে গেল ৩০টি বাড়ি, শোকস্তব্ধ দরা সংলা গ্রাম

জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে নেমে এল চরম বিপর্যয়। দরা সংলা গ্রামে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধ্বংসলীলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি নালা এখন উফনন্ত নদীতে পরিণত হয়েছে, যার দাপটে ভেসে গেছে প্রায় ৩০টি বাড়ি। এখন পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও উদ্ধার হয়েছে মাত্র ১টি দেহ। এলাকা জুড়ে উদ্ধারকাজ ও তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান ও পরিস্থিতি:
মেঘভাঙা বৃষ্টির ভয়াবহ প্রভাব শুধু পুঞ্চেই সীমাবদ্ধ নেই। কিস্তোয়ার এবং ডোডো জেলাতেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ভারী বর্ষণ ও লাগাতার ভূমিধসের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোট ২১০টি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এর মধ্যে ১১০টি রাস্তা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে সচল করা সম্ভব হলেও, এখনও প্রায় ১০০টি রাস্তা বন্ধ থাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মার নেতৃত্বাধীন বিজেপির একটি প্রতিনিধিদল। সুনীল শর্মা, রবীন্দ্র রায়না সহ অন্যান্য বিজেপি নেতারা সরাসরি রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই বিপর্যয়ের মুহূর্তে রাজ্যের কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধি বা মুখ্যমন্ত্রী এমনকি স্থানীয় বিধায়কও আক্রান্তদের পাশে এসে দাঁড়াননি। বিজেপি নেতাদের দাবি, রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা যখন দিল্লির সংবিধান ক্লাবে ব্যস্ত, তখন পুঞ্চের মানুষ ঘরবাড়ি ও আপনজন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
বিজেপির আশ্বাস ও পরবর্তী পদক্ষেপ:
বিজেপি প্রতিনিধিদল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সুনীল শর্মা জানিয়েছেন, এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে দ্রুত কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা পায়।
বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় উদ্ধারকাজে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।