ডেঙ্গু ও ডায়াবেটিসের ‘ডেডলি’ কম্বিনেশন! আপনার সুগার কি নিয়ন্ত্রণে? এখনই সাবধান হোন

গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এল এক উদ্বেগজনক তথ্য। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ডেঙ্গু সংক্রমণ সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা (Blood Sugar) নিয়ন্ত্রণে নেই, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কয়েক গুণ বেশি।
কেন ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ডেঙ্গু বেশি বিপজ্জনক?
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদী হাইপারগ্লাইসেমিয়া বা অনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করার মাত্রা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য যে শ্বেত রক্তকণিকাগুলো কাজ করে, ডায়াবেটিস তাদের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। এছাড়া:
রক্তনালীর ক্ষতি: ডায়াবেটিসের কারণে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয়, যা রক্তনালীর দেওয়ালে আঘাত করে। ডেঙ্গুর সময় এই রক্তনালীগুলো থেকে প্লাজমা লিকেজ বা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে।
অর্গান ফেইলিওর: ডেঙ্গুর ফলে সৃষ্ট炎症 (Inflammation) এবং ডায়াবেটিসের প্রভাব মিলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর বড় ক্ষতি করতে পারে।
দেরিতে সুস্থ হওয়া: শরীর সংক্রমণের সঙ্গে লড়াই করতে হিমশিম খায়, ফলে সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়।
নিয়ন্ত্রণে থাকলে ভয় নেই?
বিজ্ঞানীদের মতে, ডায়াবেটিস থাকলেই যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে, তা কিন্তু নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ওষুধ এবং ডায়েট মেনে সুগার নিয়ন্ত্রণে (HbA1c লেভেল সঠিক রাখা) রাখেন, তাদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। চিকিৎসকদের পরামর্শ, রক্তে শর্করার মাত্রা সঠিক থাকলে ডেঙ্গুর প্রভাব সাধারণ মানুষের মতোই অনেকটা সহনীয় থাকে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ:
ডেঙ্গু মৌসুমে সুগার রোগীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে:
১. রক্তে শর্করার নজরদারি: নিয়মিত সুগার চেক করুন এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
২. দেরি করবেন না: জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অবহেলা করবেন না।
৩. জল ও তরল: শরীর যাতে পানিশূন্য (Dehydrated) না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
৪. ব্যথা উপশমকারী ওষুধে সতর্কতা: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) বা অ্যাসপিরিন জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ খাবেন না। এতে ডেঙ্গুর কারণে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।