পিকনিক থেকে ফেরার পথে ডাম্পারের ধাক্কায় নিহত ৫ যুবক! ‘বালি মাফিয়াদের ষড়যন্ত্র’, দাবি পরিবারের

মধ্যপ্রদেশের নরসিংহপুরে মর্মান্তিক পথদুর্ঘটনা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। রবিবার সন্ধ্যায় হাতিনালা জলপ্রপাত থেকে পিকনিক সেরে ফেরার পথে একটি দ্রুতগামী ডাম্পারের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ যুবক। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও একজন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তবে পুলিশ একে পথদুর্ঘটনা বললেও, নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার সন্ধ্যায় জবলপুর-ভোপাল জাতীয় সড়কের পাশে একটি চায়ের দোকানে দাঁড়িয়েছিলেন ছয় যুবক। সেই সময় একটি বেপরোয়া ডাম্পার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের পিষে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চারজনের। পরে হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়। হতাহতরা মূলত শাহপুরা, মানেগাঁও ও নরসিংহপুর এলাকার বাসিন্দা।
হত্যার অভিযোগ কেন?
নিহতদের পরিবারের দাবি, মৃতদের মধ্যে থাকা সমাজবাদী পার্টির মুলায়ম যুব শাখার রাজ্য সভাপতি রাজেন্দ্র লোধি দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় অবৈধ বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। সপা নেতা আশিস মিশ্রর অভিযোগ, ট্রাকটি শুধুমাত্র রাজেন্দ্র এবং তাঁর সঙ্গীদের লক্ষ্য করেই ধাক্কা দেয় এবং চালক সচেতনভাবেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের পিষে দেয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পর পরিবারের সদস্যদের দাবি, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা হতে পারে না।
কী বলছে প্রশাসন?
নরসিংহপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্দীপ ভুরিয়া জানান, “যুবকরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, সেই সময় একটি ডাম্পার তাঁদের চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পলাতক চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।” তবে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ এখনই সরাসরি কিছু না বললেও, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে।
শোকের ছায়া এলাকায়
এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। সমাজবাদী পার্টির স্থানীয় নেতৃত্ব এই ঘটনাকে বালি মাফিয়াদের দাপট বলে উল্লেখ করেছেন।
জাতীয় সড়কের ওপর ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটির পিছনে সত্যিই কোনো অপরাধমূলক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখন পুলিশের তদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায়।