‘তথ্য কেন গোপন?’ আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় এএআইবি-এর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ নিহতদের স্বজনরা

গত বছর ১২ই জুন আহমেদাবাদে ঘটা এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট এআই-১৭১ দুর্ঘটনার ক্ষত এখনও দগদগে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটির সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল ২৬০টি প্রাণ। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। তদন্তকারী সংস্থা এএআইবি (AAIB) ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (CVR) এবং ব্ল্যাক বক্সের তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকার করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতদের পরিবারবর্গ।
পরিবারবর্গের তীব্র অসন্তোষ
সম্প্রতি আহমেদাবাদে নিহতদের পরিবারের এক বৈঠকে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। রোমিন ভোরা, যিনি এই দুর্ঘটনায় তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়েছেন, তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রাথমিক তদন্তের সময় যদি সিভিআর-এর প্রতিলিপি প্রকাশ করা সম্ভব হয়, তবে এখন কেন আইনি বাধার দোহাই দেওয়া হচ্ছে?” পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তদন্তকারী সংস্থা বেছে বেছে তথ্য প্রকাশ করে পাইলটদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে কিংবা নিহতদের পরিবারকে বিভ্রান্ত করছে।
তদন্তে স্বচ্ছতার দাবি
পরিবারের সদস্যদের স্পষ্ট দাবি:
ব্ল্যাক বক্সের মূল ডেটা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
অথবা নিহতদের পরিবার বা তাদের আইনি প্রতিনিধিদের কাছে সেই তথ্য হস্তান্তর করতে হবে।
তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন।
এএআইবি-র সাফাই ও অক্টোবরের ডেডলাইন
অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হলফনামায় এএআইবি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ককপিটের অডিও রেকর্ডিং এবং উড্ডয়নকালীন তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে “আইনি বাধা” রয়েছে। তাদের যুক্তি, তদন্তের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এই তথ্যগুলো গোপন রাখা প্রয়োজন। তবে সংস্থাটি আশ্বস্ত করেছে যে, এই বছরের অক্টোবরের মধ্যেই দুর্ঘটনার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রস্তুত হয়ে যাবে।
স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবি
তদন্তের পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থলে একটি স্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রোমিন ভোরা জানান, তাঁরা এখন চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন। প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা লঙ্ঘিত হলে অথবা আইনি পথ রুদ্ধ হলে, পরিবারগুলো আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পটভূমি:
গত বছরের ১২ই জুন আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বি জে মেডিকেল কলেজের হোস্টেল কমপ্লেক্সের ওপর আছড়ে পড়েছিল এআই-১৭১। এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪১ জন যাত্রী এবং মাটিতে থাকা ১৯ জনসহ মোট ২৬০ জন প্রাণ হারান।