আতঙ্ক নয়, সতর্কবার্তা! অন্ধ্রপ্রদেশে মিলল ওমিক্রনের নতুন ভ্যারিয়েন্ট RF.5, কী জানাল স্বাস্থ্য দফতর?

অন্ধ্রপ্রদেশে করোনা সংক্রমণের নতুন উদ্বেগ। শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্য কুমার যাদব নিশ্চিত করেছেন যে, কড়াপা (Kadapa) জেলা থেকে সংগৃহীত নমুনায় ওমিক্রনের নতুন উপ-ধরন ‘RF.5’-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পুনের একটি ভাইরোলজি ল্যাবরেটরিতে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে মোট চারটি নমুনায় এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে।
ভয়ের কিছু নেই, দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর:
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্য কুমার যাদব জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমানে উপলব্ধ বৈজ্ঞানিক তথ্যানুযায়ী, RF.5 ভ্যারিয়েন্টটি অন্য ওমিক্রন স্ট্রেনের তুলনায় বেশি বিপজ্জনক—এমন কোনো প্রমাণ এখনও মেলেনি। এটি মূলত ওমিক্রনের JN.1 লিনিয়েজ থেকে তৈরি একটি উপ-ধরন, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র নিয়মিত নজরদারির তালিকায় রয়েছে। উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এই ভ্যারিয়েন্টের সংখ্যা বর্তমানে কিছুটা বেশি।
স্বাস্থ্য দফতরের প্রস্তুতি:
ইতিমধ্যেই রাজ্যে মোট ১৬টি করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৪টি নিশ্চিতভাবে RF.5 উপ-ধরন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দফতর সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে:
হাসপাতালে প্রস্তুতি: টিচিং হাসপাতালগুলোতে বিশেষ কোভিড ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরঞ্জামের মজুত: প্রয়োজনীয় টেস্টিং কিট এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখা হয়েছে।
নজরদারি: জিনোম সার্ভিলেন্স বা নজরদারি প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে।
লক্ষণ ও সাবধানতা:
বিশেষজ্ঞদের মতে, RF.5 ভ্যারিয়েন্টের উপসর্গ ওমিক্রনের অন্যান্য উপ-ধরনগুলোর মতোই। এর মধ্যে রয়েছে—গলা ব্যথা, কাশি, জ্বর, মাথাব্যথা এবং শরীরে ব্যথা। স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রিত ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, তবুও সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।