২১ জুলাইয়ের মঞ্চে মমতা নেই! ফিরহাদ হাকিমের সংক্ষিপ্ত কথায় বাড়ছে জল্পনা

একুশে জুলাই মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দলের প্রথম সারির নেতাদের এক মঞ্চে দেখার ছবি। কিন্তু ২০২৬ সালের এই শহিদ দিবসে তৃণমূলের অন্দরে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ উঠে এল। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকছেন বিড়লা তারামণ্ডলের সভায়, আর কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং অরূপ রায়ের নেতৃত্বে গান্ধী মূর্তির সামনে বসছে পৃথক এক মঞ্চ।
কী বললেন ফিরহাদ?
রবিবার গান্ধী মূর্তির সামনে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ফিরহাদ হাকিম। এ বছর মমতাকে মঞ্চে ‘মিস’ করবেন কি না—এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়ে তিনি রহস্য বজায় রাখেন। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি কেবল বলেন, “মিটিংয়ে বলব।” তাঁর এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে শহিদ তর্পণের বিষয়ে আবেগপ্রবণ ফিরহাদ বলেন, “আমরা যারা লড়াই করেছি, তারা থাকব। যতদিন বেঁচে থাকব, একুশে জুলাই শহিদ তর্পণ করে যাব।”
মমতার ছবি কি থাকছে না?
এবারের আলাদা এই অনুষ্ঠানে শহিদ পরিবারের সদস্যদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান অরূপ রায়। তাঁদের বসানো হবে সামনের সারিতে। অনুষ্ঠানের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে অরূপ রায় জানান, তাঁরা এই মঞ্চে মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরের ছবি রেখেছেন। অর্থাৎ, দলীয় নেত্রীর অনুপস্থিতিতে এই চার মণীষীর ছবির ওপরই জোর দিচ্ছে এই শিবির।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
অরূপ রায়ের কথায়, “আমরা কতটা বিজেপি বিরোধী, তা কাজের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেব।” এই পৃথক আয়োজন যে শুধুই রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং দলের অন্দরের এক নতুন বার্তার ইঙ্গিত, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। একুশে জুলাইয়ের এই দুই মঞ্চ ঘিরে এখন কৌতূহল তুঙ্গে। তবে কি তৃণমূলে কোনো বড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে? এই প্রশ্নই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।