সফদরজং হাসপাতালে পুলিশের ‘অবরোধ’! স্বামীর স্থানান্তরের জন্য হাইকোর্টে দৌড়ালেন ওয়াংচুকের স্ত্রী

দিল্লির সফদরজং হাসপাতালকে কার্যত ‘পুলিশি দুর্গ’-এ পরিণত করা হয়েছে! সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই, তাঁকে বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগ তুলে সরব হলেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে. আংমো। স্বামীর দ্রুত সুচিকিৎসার স্বার্থে তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার অনুমতি চেয়ে রবিবার দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি।

পুলিশি পাহাড়ায় ‘নজরবন্দি’ সোনম? গীতাঞ্জলি আংমোর অভিযোগ, সফদরজং হাসপাতালের যে ফ্লোরে সোনম ওয়াংচুক ভর্তি রয়েছেন, সেখানে অন্তত ৩০ জন পুলিশ কর্মী সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছেন। হাসপাতালের পুরো চত্বর মিলিয়ে প্রায় শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের চলাফেরা ও যোগাযোগে নানারকম বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। গীতাঞ্জলির কথায়, “এটি আর চিকিৎসা পরিষেবা নেই, বরং এক প্রকারের বেআইনি আটক।”

হাসপাতালের ওপর আস্থা হারালেন স্ত্রী: সফদরজং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে গীতাঞ্জলি জানান, “বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ছাড়তে বা আমাদের পছন্দের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে অস্বীকার করছে।” শুধু তাই নয়, হাসপাতালের মেডিকেল বুলেটিনে ওয়াংচুকের পটাশিয়ামের মাত্রার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ‘সুপরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া’ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

হাইকোর্টে জরুরি আবেদন: সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে গীতাঞ্জলি আংমো বলেন, “নিজের প্রিয়জনের চিকিৎসার জায়গা বেছে নেওয়ার জন্য কোনো পরিবারকেই কেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে লড়তে হবে?” স্বামীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার আগেই যাতে তাঁকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যায়, তার জন্য তিনি আদালতে জরুরি শুনানির আর্জি জানিয়েছেন।

আন্দোলনের পটভূমি: উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং NEET পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে গত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। টানা ২১ দিন অনশনের পর গত শনিবার দিল্লি পুলিশ তাঁকে বলপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি করে। এর আগে আন্দোলনের সমর্থনে যন্তর মন্তরে অন্যান্য প্রতিবাদকারীদের বিক্ষোভেও উত্তাল হয়েছিল রাজধানী।

এখন দেখার বিষয়, হাই কোর্ট এই ‘পুলিশি বেষ্টনী’ ও স্থানান্তর নিয়ে কী নির্দেশ দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *