‘প্রতিটি জীবন মূল্যবান’, ওয়াংচুকের হাসপাতালে ভর্তির সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিল আদালত

অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরের সরকারি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা আবেদন খারিজ করল দিল্লি হাই কোর্ট। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি বিবেচনা করলে এই পদক্ষেপ কোনোভাবেই ‘খেয়ালখুশিমতো’ ছিল না। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, ওয়াংচুককে জোর করে আটকে রাখা হয়নি, তিনি স্বাধীন নাগরিক হিসেবেই সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে যা উঠে এল: ১৭-১৮ দিন ধরে টানা অনশনের জেরে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছিল। মেডিকেল রিপোর্টে দেখা যায়, তাঁর রক্তে পটাশিয়াম ও শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কম ছিল, যা প্রাণঘাতী হতে পারত। এই পরিস্থিতিতে সরকার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাকে সমর্থন জানিয়ে আদালত বলেছে— “প্রতিটি জীবনই মূল্যবান এবং তা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।”

আটকের অভিযোগ নিয়ে কী বলল আদালত? ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো আবেদন করেছিলেন, সোনমকে যেন সফদরজং থেকে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে প্রশ্ন তোলেন, কোনো ফৌজদারি অপরাধ ছাড়াই একজন নাগরিককে কেন তাঁর পছন্দের চিকিৎসক বা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে?

এর জবাবে আদালত পর্যবেক্ষণ করে:

  • ওয়াংচুক আটক অবস্থায় নেই, তিনি হাসপাতালের নিয়ম মেনেই চিকিৎসকদের পরামর্শে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

  • যেহেতু তিনি নিজে থেকে হাসপাতালে ভর্তি হননি এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত জটিল ছিল, তাই জীবন রক্ষার্থে সরকার তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তরের ক্ষমতা রাখে।

  • আদালত এই প্রক্রিয়ায় কোনো ‘শারীরিক স্বায়ত্তশাসন লঙ্ঘন’ দেখতে পায়নি।

পরবর্তী পদক্ষেপ: আদালত সরকার, পুলিশ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নোটিশ জারি করেছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ জমা দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী শুনানি হবে আগামী বৃহস্পতিবার। এই মুহূর্তে আদালত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *